Custodial Death

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন বন্দির মৃত্যু বাখরাহাটে! রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ, বিজেপি কর্মীর অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়

মৃতের নাম পালান রায়। তিনি বাখরাহাটের জয়চন্ডী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার বাড়ির সামনে রাস্তা তৈরি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নিতে পালান স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কাছে গিয়েছিলেন।

বাখরাহাটে বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর
  • শেষ আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৯

বীজপুরের পরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিষ্ণুপুর। আবার পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন বন্দির মৃত্যু ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, হেফাজতে থাকাকালীন যুবকের ওপরে নির্যাতন করা হয়েছে। তাই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিবাদে এলাকাবাসী রাস্তা অবরোধ করেন। এর জেরে ঠাকুরপুকুর রোড অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। পুলিশ যদিও পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

মৃতের নাম পালান রায়। তিনি বাখরাহাটের জয়চন্ডী গ্রামের বাসিন্দা। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার বাড়ির সামনে রাস্তা তৈরি সংক্রান্ত একটি বিষয় নিয়ে খোঁজখবর নিতে পালান স্থানীয় এক বিজেপি নেতার কাছে গিয়েছিলেন। সেখানেই বিজয় সিংহ সঙ্গে তাঁর তর্কাতর্কি শুরু হয়। বিজয় সিংহ স্থানীয় বিজেপি কর্মী বলে স্থানীয়েরা দাবি করেছেন। বচসার এক পর্যায়ে পালান বিজয়কে ঘুষি মারেন। এরপর বিজেপি কর্মী বিজয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পালান রায়কে বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

পরিবারের দাবি, এ দিন দুপুর প্রায় দু’টো নাগাদ পালানকে পুলিশ বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁকে মারধর ও শারীরিক ভাবে নির্যাতন করা হয়। তাঁর আগে থেকেই হৃদযন্ত্রের সমস্যা ছিল। প্রায় তিন বছর আগে তাঁর বুকে স্টেন্ট বসানো হয়েছিল। সেই বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছিল বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন পালান অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হলেও তা করা হয়নি। তাঁকে সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। এর জেরেই পালানের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

পুলিশের হেফাজতে থাকাকালীন বন্দির মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পুলিশ ফাঁড়ির সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়। বাখরাহাট মোড়ও অবরোধ করেন তাঁরা। অবরোধের জেরে সম্পূর্ণ ব্যস্ত বাখরাহাট–ঠাকুরপুকুর রোড অবরুদ্ধ হয়ে যায়। এলাকায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়।

এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দু’জন বিজেপি কর্মী পালানকে পুলিশ দিয়ে তুলিয়ে দিয়েছিল। তারা হল— বিপ্লব চৌধুরী এবং বিজয় সিংহ। থানার বড়বাবু বলেছিল, মারামারি করছে যখন ব‍্যবস্থা নিয়ে ছাড়ব।” তাঁদের দাবি, অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করা হোক।

যদিও পুলিশের বক্তব্য, পরিবারের দাবি সঠিক নয়। বাখরাহাট ফাঁড়িতে নিয়ে আসার পরই পালান রায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পুলিশ গাড়িতে করে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।


Share