Baruipur Incident

বারুইপুরের অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার লাহেক আলি, গোলমালে সরাসরি ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে সিপিএম নেতাকে হেফাজতে নিল পুলিশ

তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছিলেন, “বাকি তিনটি বিষয়ে যারা জড়িত তাঁরা অতৃপ্ত আত্মা। তাঁরা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন। এখনও ঢুকেই আছে। এই তিনটি কান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, এদেরকেও কিন্তু ভুগতে হবে।”

গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ১২ জুলাই ২০২৬ ১১:৫৩

বারুইপুর অশান্তির ঘটনায় সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করল পুলিশ। গত বিধানসভা নির্বাচনে লাহেক বারুইপুর পশ্চিম কেন্দ্র থেকে সিপিএমের টিকিটে লড়ছিলেন। গত রবিবার সূর্যপুরের অশান্তি ঘটনায় সরাসরি ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগে লাহেক আলিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

গত ৫ জুলাই নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরে সূর্যপুর এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। একাধিক দোকান ভাঙচুর করা হয়েছিল। পুলিশের গাড়িতে ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। দুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান-সহ তিন পুলিশকর্মী গুরুতর জখম হন। এমনকী, রেললাইনের ওপরে লোহার বিম রেখে দেওয়া হয়েছিল।

লাহেক আলিকে কেন গ্রেফতার করা হল তা নিয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিক ভাবে এখনও কিছুই জানায়নি। তবে পুলিশ সূত্রের খবর, ভাঙচুর, পুলিশের ওপরে হামলা, এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর সরাসরি ইন্ধন তিনিই দিয়েছিলেন। রবিবার রাতে লাহেক আলিকে বারুইপুর থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে বারুইপুর থানার নিয়ে আসা হয়েছে। সোমবার ধৃত লাহেক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে।

রবিবারে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনার পরে ইন্দ্রজিৎ মন্ডল নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করে দুষ্কৃতীরা। সেই ঘটনায় শামিম আলি খান-সহ মোট সাত জনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ঘটনার পরে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে অশান্তি পাকানোর জন‍্য এই ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ মনে করছে। ঘটনার দিন লাহেক আলি সূর্যপুরেই উপস্থিত ছিলেন। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি তথ‍্যপ্রমাণ ছাড়াই একাধিক উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছিল। তা সমাজমাধ‍্যমে ভাইরালও হয়েছে।

গণপিটুনি, ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের ওপরে হামলার ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক দিক’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ঘটনার বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে ২০০ জনকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। এর পাশাপাশি তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছিলেন, “বাকি তিনটি বিষয়ে যারা জড়িত তাঁরা অতৃপ্ত আত্মা। তাঁরা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন। এখনও ঢুকেই আছে। এই তিনটি কান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, এদেরকেও কিন্তু ভুগতে হবে।” এর পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন ভোগাব, বুঝতে পারবে।”


Share