Baruipur Incident

দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানো, সরাসরি দাঙ্গায় প্ররোচনা দিয়েছেন সিপিএম নেতা, লাহেক আলির বিরুদ্ধে ২০টি ধারায় মামলা রুজু করল পুলিশ

সোমবার দুপুরে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। তিনি কী ভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন, ফোনে ওই দিন কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন তা জানতে চায় পুলিশ।

বারুইপুরের অশান্তির ঘটনায় গ্রেফতার সিপিএম নেতা লাহেক আলি।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১৩ জুলাই ২০২৬ ১১:৪১

সরাসরি দাঙ্গায় প্ররোচনা দিয়েছেন। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছেন। বারুইপুরে অশান্তির ঘটনায় সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, লাহেক আলির বিরুদ্ধে ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার মোট ২০টি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

গত ৫ জুলাই বারুইপুরের সূর্যপুরে নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পরে এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। দোকানপাট ভাঙচুর থেকে রাস্তায় গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা এলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তাঁদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল থেকে কাচের বোতল ছোড়া হয়। সেই ঘটনায় দুই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান-সহ তিন পুলিশকর্মী জখম হন। আন্দোলনের নামে গুন্ডামি যে শুধু ওই এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিল তা নয়, সেই আঁচ নরেন্দ্রপুর এবং সোনারপুর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। মহকুমাশাসককে ১৬৩ ধারা জারি করতে হয়। রবিবার ঘটনার দিন রেল অবরোধ হয়। রেললাইনের ওপরে লোহার বিম রেখে দেওয়া হয়। একটি পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে দেওয়া হয়।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত সিপিএম নেতার লাহেক আলির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ২০টি ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। অশান্তিতে উস্কানি, প্ররোচনা, গন্ডগোল পাকানো, পিডিপিপি আইনের সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে লাহেক আলির বিরুদ্ধে। রেলকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়া এবং সম্পত্তি ভাঙচুরের ধারাতেও মামলা রয়েছে। অভিযোগ, ঘটনার দিন লায়েক আলি এলাকায় বেআইনি জমায়েত করেছেন। দাঙ্গায় সরাসরি উস্কানি দিয়েছেন। দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্বেষ ছড়িয়েছেন। একটি সম্প্রদায়ের ভাবাবেগে আঘাত করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও, সরকারি কর্মীদের ওপর আক্রমণ এবং তাঁদের কাজে বাধা দিয়েছেন। আন্দোলনের সময় প্রাণঘাতী অস্ত্র নিয়ে জমায়েত করার ধারাও সিপিএম নেতা লাহেক আলির বিরুদ্ধে আনা হয়েছে।

অন‍্য দিকে, ইন্দ্রজিৎ মন্ডল নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করা হয়। সেই ঘটনায় সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এক যুবককে বসিরহাটের বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে এসটিএফ গ্রেফতার করে, আরেক জনকে দত্তপুকুর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাকিদের বারুইপুরের আশপাশের এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। এই গণপিটুনির ঘটনাতেও তাঁকে টেনে নেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।

সোমবার দুপুরে সিপিএম নেতা লাহেক আলিকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে হাজির করানো হবে। তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হতে পারে। তিনি কী ভাবে উস্কানি দিয়েছিলেন, ফোনে ওই দিন কার কার সঙ্গে কথা বলেছেন তা জানতে চায় পুলিশ।

উল্লেখ্য, গণপিটুনি, ভাঙচুর, পুলিশকর্মীদের ওপরে হামলার ঘটনায় ‘সাম্প্রদায়িক দিক’ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছিলেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেছিলেন, ঘটনার বিভিন্ন ভিডিয়ো ফুটেজ দেখে ২০০ জনকে পুলিশ চিহ্নিত করেছে। তাদের কাউকে রেয়াত করা হবে না। এর পাশাপাশি তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু বলেছিলেন, “বাকি তিনটি বিষয়ে যারা জড়িত তাঁরা অতৃপ্ত আত্মা। তাঁরা ভোটে হেরে ঘরে ঢুকে গিয়েছিলেন। এখনও ঢুকেই আছে। এই তিনটি কান্ডের সঙ্গে যারা জড়িত রয়েছে, এদেরকেও কিন্তু ভুগতে হবে।” এর পরেই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “এমন ভোগাব, বুঝতে পারবে।”


Share