School Child Beaten

‘আরেকটু ভাত দাও’, খাবার চাওয়ার অপরাধে গেটম্যানের চড়ে জখম পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র, শাস্তিপুরে উত্তেজনা

নদিয়ার শান্তিপুরের কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে মিড-ডে মিলের সময় এক মুঠো ভাত বেশি চাওয়াকে কেন্দ্র করে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে স্কুলের গেটম্যানের বিরুদ্ধে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, শান্তিপুর
  • শেষ আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬ ০৮:০৪

‘এক মুঠো ভাত দাও।’ এক মুঠো ভাত বেশি চাওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রের কপালে জুটল মার। স্কুলের গেটম্যানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠেছে। নদিয়ার শান্তিপুরে ঘটনাটি ঘটেছে। অভিভাবকের অভিযোগ, ওই শিশুটি জখম হয়েছেন। এর পরেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীকে আসতে হয়। 

শান্তিপুর থানার অন্তর্গত কুতুবপুর জুনিয়র হাই স্কুলে ঘটনাটি ঘটেছে। স্থানীয় ও স্কুল সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো স্কুলে মিড-ডে মিলের খাবার বিতরণ করা হচ্ছিল। অভিযোগ, সেখানে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রটি খাবার খাচ্ছিল। শিশুটির খিদে না মেটায় কর্তব্যরত গেটম্যানের কাছে সে সামান্য কিছু ভাত চায়।তাতেই অভিযুক্ত গেটম্যান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।

অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনও কথা না বলেই ওই গেটম‍্যান ছাত্রের মাথায় সজোরে চড় মারেন। চড়ের অভিঘাতে ছাত্রটি মুখ থুবড়ে নিজের খাবারের থালার ওপর পড়ে যায়। থালার ধারালো অংশ মাথায় লেগে আঘাত লাগে। শিশুটির কপাল কেটে গিয়েছে। রক্তাক্ত অবস্থায় ওই পড়ুয়া কান্নায় ভেঙে পড়ে। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও উপস্থিত কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ছাত্রটির পরিবারের সদস্যেরা স্কুলে ছুটে আসেন। এর পরেই অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। ক্ষুব্ধ পরিবারের অভিযোগ, “একটি ছোট শিশু এক মুঠো ভাত বেশি চেয়েছিল। সেই কারণে তাকে মারধর করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের আচরণ কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।”

স্কুল চত্বরে ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকে। খবর দেওয়া হয় শান্তিপুর থানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ ও নিরাপত্তারক্ষীদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় এখনও উত্তেজনা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অভিযুক্ত গেটম্যানের বিরুদ্ধে কী প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সেদিকেই এখন নজর সকলের। একজন স্কুলকর্মীর বিরুদ্ধে এমন অমানবিক আচরণের অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়।


Share