Suvendu Adhikari

‘কান খুলে শুনে রাখুন, এটাই আপনার শেষ বক্তব‍্য,’ ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিধানসভায় রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী, হুমায়ুন কবিরকে হুঁশিয়ারি শুভেন্দুর

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন সময় এসেছে, এই লোককে শবক শেখানোর। আমি আপনাকে পরিষ্কার বলছি— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন। যা খুশি করেছেন।”

হুমায়ুন কবিরকে হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মুর্শিদাবাদ
  • শেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬ ০৩:২৩

ধর্মীয় উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিধানসভায় রণংদেহী মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ভরতপুরের আম জনতা পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার নয়। তাই এমন ‘বেলালাগাম’ মন্তব্য বরদাস্ত করা হবে না। এটাই হুমায়ুনের শেষ বক্তব‍্য। তিনি এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন, এর পরে এমন মন্তব্য করার আগে ২৫ বার ভাবতে হবে।

গত ২৬ জুন মুর্শিদাবাদের রেজিনগরের দলীয় একটি সভায় যোগ দিয়েছিলেন আম জনতা পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবির। সেখানকার কাশীপুরে একটি দলীয় সভায় বক্তব্য রাখার সময় হুমায়ুন একাধিক ‘ধর্মীয় উস্কানিমূলক’ মন্তব্য করেন। সেই সভাতে হুমায়ুন বলেছিলেন, “অনামিকা ঘোষ ভোটে হেরেছেন। তার পরেও এলাকায় তিনি আস্ফালন করে বেড়াচ্ছেন। আমি সেদিন শুভেন্দু অধিকারীকে বলেছি যে আপনি জিতেছেন, আপনার দল জিতেছে, ভালো কথা, কিন্তু মুর্শিদাবাদে আস্ফালনটা একটু কম করবেন। আমি যেদিন মুসলমানদের নিয়ে নেমে যাব না, তখন (ওরা) স‍্যাঁটা ভাঙা মার শুরু করবে। তার পরে আপনাদের পতাকা বহন করার মতো লোক থাকবে না।”

হুমায়ুন এখানেই থেমে থাকেননি। তিনি আরও বলেছেন, “আমাদের জেল খাটা আছে। পাঁচ হাজার লোককে নিয়ে রাস্তায় নামব। বহরমপুর সংশোধনাগারে চার হাজার ৫০০-র বেশি লোক এখানে ধরে না। এক লক্ষ লোককে নিয়ে রাস্তায় নামব। আর স‍্যাঁটা ভাঙা মার দেব। মেরে জেলে যাব। কত জনকে জেলে রাখতে পারেন দেখব। কত জেলে খাওয়াতে পারবেন তা-ও দেখব। মাথা যথন গরম হয়ে যাবে, তখন এসপি বুঝব না, মুখ্যমন্ত্রীর বুঝব না। কে কোথায় আছে তা-ও বুঝব না।”

শুধু তা-ই নয়, নির্বাচনের আগে হুমায়ুন কবিরের ভাইপোকে একাধিক অভিযোগে পুলিশ গ্রেফতার করে। নির্বাচনের আগে শক্তিপুরের একটি সভা থেকে হুমায়ুন বলেছিলেন, “এই ওসি আমার ভাইপোকে গ্রেফতার করেছে। এই ওসি ৫০০ মুসলমানের জীবন নষ্ট করেছে।” থানার ওসিকে কুরুচিকর মন্তব্য করে হুমায়ুন বলেছিল, “এই ওসিকে সরাতে হবে। একেবারে গ‍্যারেজ পোষ্টিং করতে হবে। না হলে কয়েক হাজার মুসলমান নিয়ে থানা ঘেরাও করব। কলার ধরে ওসিকে টেনে নিয়ে আসব।”

এমন ধর্মীয় উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখার পরে সোমবার বিধানসভার অধিবেশনে মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এখন সময় এসেছে, এই লোককে শবক শেখানোর। আমি আপনাকে পরিষ্কার বলছি— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী নন। আপনি দুর্বল মুখ্যমন্ত্রী পেয়ে যা খুশি বলেছেন। যা খুশি করেছেন।”

মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই দুটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। দুটো এফআইআরেই ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এত বড় ক্ষমতা আপনাকে কে দিয়েছে?”

কেন হুমায়ুন এমন মন্তব্য করেছেন তা-ও মুখ্যমন্ত্রীর শুভেন্দু অধিকারীর জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, হুমায়ুন কবির রেজিনগর এবং ভরতপুর থেকে জিতেছেন। রেজিনগর থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছেন। হুমায়ুন চাইছেন, এক ভরতপুর, রেজিনগর, নওদায় যত পঞ্চায়েত ছিল, সব ভেঙে সদস‍্যরা যাতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে চলে আসেন। তা কোনও ভাবেই তিনি নিশ্চিত করতে পারছেন না।

এ ছাড়াও, রেজিনগরে দু-তিন মাসের মধ্যে উপনির্বাচন হবে। সেই কেন্দ্রে হুমায়ুন তাঁর ছেলেকে দাঁড় করাতে চাইছেন। ওই কেন্দ্রে ৬২ শতাংশ মুসলমান সেখানে রয়েছে। ভোটব‍্যাঙ্ক মজবুত করার জন‍্যই হুমায়ুন কবির এই খোলাটা খেলছেন বলেও দাবি করেন রাজ‍্যের মুখ‍্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

এর পরেই হুমায়ুনকে মুখ্যমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আপনি কান খুলে শুনে রাখুন, আপনাকে এ ভাবে লাগামছাড়া, বেপরোয়া মন্তব্য করতে দেব না, দেব না, দেব না।“ এর পরে মুখ্যমন্ত্রী তিন জনের উদাহরণ টেনে আনেন। তিনি বলেন, “সন্দেশখালিতে এরকম একটা ছিল। ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি বলেছিল— তৎকালীন বিরোধী দলনেতাকে সেখানে (সন্দেশখালি) গেলে পা খুলে হাতে, হাত খুলে পায়ে লাগিয়ে দেবে। আরও বলেছিল, বিরোধী দননেতার পিঠের চামড়া তুলে মেদিনীপুরের পাঠিয়ে দেব। ওর অবস্থা কী হয়েছে সবাই দেখেছে। আরেকটা ছিল জীবনতলার গুন্ডা। তাঁর অবস্থা কী হয়েছে সবাই দেখছে। এর‍ পরেরটা ‘পুষ্পা’ (জাহাঙ্গির খান)। সে বলেছিল, ‘পুষ্পা ঝুকেগা নেহি।’ এমন ঝোঁকা ঝুঁকেছে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারছে না। হাফ প‍্যান্ট পড়ে কান ধরে উঠবস করছে।”

এক সপ্তাহ পরে মুর্শিদাবাদ সফরে যাবেন বলেও জানান রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি এই বিষয়ে বলেন, “ভারতের সংবিধান শেষ কথা বলে। কারোর বাপের আওয়াজ শেষ কথা বলে না। আপনি সংযত হন। সতর্ক হন। হুঁশিয়ারি দিয়েই বলছি— এমন কথা বলার আগে ২৫ বার ভাবুন।”

হুমায়ুনের এই উস্কানিমূলক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে যে কঠোর পদক্ষেপ সরকার নিতে চলেছে, তা নিয়েও আশ্বস্ত করেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কথায়, মামলা রুজু হয়েছে। কিন্তু কোনও পদক্ষেপ করা হচ্ছে না। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “সবাই ভাবছেন কেশ হয়েছে, অ‍্যাকশন কবে হবে। আপনাকে বলে রাখি, আপনাকে যাঁরা ডেকেছে আগে তাঁদের তুলব। তার পরে আপনার কাছে যাব। যা করার আমরা করব। আপনি ধরে রাখুন এটাই আপনার শেষ বক্তব্য।” বিজেপির নেতৃত্বাধীন সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। গুন্ডাদের শাসন শেষ করবে বলেও স্পষ্ট জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।


Share