Police Transferred

পুলিশি হেফাজতে যুবকের মৃত্যু, চন্দ্রকোনা থানার ওসি ‘ক্লোজ’! নতুন দায়িত্বে প্রত্যয় দাস, উঠছে একাধিক প্রশ্ন

বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা তাঁকে সরানোর নির্দেশ দেন। চন্দ্রকোনা থানার নতুন ওসি হিসেবে প্রত্যয় দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

চন্দ্রকোণা থানা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, চন্দ্রকোণা
  • শেষ আপডেট: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৬

পুলিশি হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনার পর চন্দ্রকোনা থানার ওসি পুরষোত্তম পাণ্ডেকে ‘ক্লোজ’ করা হল। বৃহস্পতিবার রাতে পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা তাঁকে সরানোর নির্দেশ দেন। চন্দ্রকোনা থানার নতুন ওসি হিসেবে প্রত্যয় দাসকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর আগে তিনি এসওজি সেলের ওসি ছিলেন।

গত রবিবার চন্দ্রকোনা থানার লকআপে থাকা বছর কুড়ির রাহুল রুইদাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় থানার শৌচাগার থেকে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার পরেই থানায় পৌঁছোন জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি জানিয়েছিলেন, ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। এর পরেই চন্দ্রকোনা থানার ওসি-কে সরানোর নির্দেশ সামনে আসে। যদিও পুলিশ সুপারের দাবি, পুরষোত্তম পাণ্ডের বদলি ‘রুটিন’ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ারই অংশ।

অন্য দিকে, ঘাটাল মহকুমা আদালতে মৃতের বাবা বিফল রুইদাস অভিযোগ করেছেন, লকআপের মধ্যেই তাঁর ছেলেকে মারধর করে খুন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাহুলের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। ময়নাতদন্তের পুরো প্রক্রিয়া ভিডিয়োগ্রাফিও করা হয়েছে। পাশাপাশি, ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্ত চলছে। মানবাধিকার কমিশনের তরফেও বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর রাতে ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার অভিযোগে চন্দ্রকোনা থানার পুলিশ তিন জনকে গ্রেফতার করে পর দিন তাঁদের আদালতে হাজির করানো হলে চার দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পরেই পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় তাঁদের মধ্যে এক জন, রাহুলের মৃত্যু হয়। লকআপে মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠেছে।


Share