Assembly Election

তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত ভাটপাড়া, গুলিবিদ্ধ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান, বিজেপি প্রার্থীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ

কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ওপরে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালাতেই এই হামলা করা হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব।

তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে উত্তপ্ত জগদ্দল থানা চত্বর।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১০:১৮

দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের আগে থেকে উত্তপ্ত উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া। রবিবার রাত থেকে তৃণমূল-বিজেপির সংঘর্ষে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ বার তৃণমূলের ভাটপাড়ার বিজেপি প্রার্থী পবনকুমার সিংহের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। সেখানে গুলিও চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এক কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

রবিবার রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় জগদ্দল থানার চত্বর। জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী রাজেশ কুমার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মামলা করার থানায় গিয়েছিলেন। সেই সময় আচমকা থানায় পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ পান্ডে, সৌরভ সিংহ সেখানে পৌঁছোন। তাঁদের সঙ্গে বাকি তৃণমূলের কর্মীরাও ছিলেন। এই খবর পেয়েই জগদ্দল থানায় পৌঁছে যান ব‍্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা নোয়াপাড়ার বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিংহ। অভিযোগ, তিনি গাড়ি থেকে নেমেই থানার গেটের সামনে রীতিমতো গুন্ডাগিরি শুরু করে দেন। এমনকী, তিনি তৃনমূল নেতাদের বেধড়ক মারতে শুরু করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এর পরেই দু’পক্ষের মধ্যে তুমুল হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। ব‍্যপক ধাক্কাধাক্কি থেকে চড়-ঘুষি চলতে থাকে। বিজেপি নেতা নিজেই তৃণমূল কর্মীদের মারতে উদ্যত হন। তৃণমূলের কর্মীরাও বিজেপি নেতা অর্জুনের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অর্জুনের সঙ্গে থাকা দেহরক্ষী কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানেরা আটকানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু তাতেও কোনও লাভ হয়নি। এমনকী, থানার ভেতরেও তৃণমূল এবং বিজেপির সমর্থকদের মারপিট হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। ঠিক তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই থানার বাইরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। দু’পক্ষই একে অপরের দিকে মারতে উদ্যত হয়ে। একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর ছোড়া শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খায় পুলিশ। ডাকা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। তাঁরা এসে মৃদু লাঠিচার্জ করে। তার পরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

এর পরেই অর্জুনের পুত্র তথা জগদ্দলের বিজেপি প্রার্থী পবনকুমার সিংহের বাড়িতে বিক্ষোভ আছড়ে পড়ে। বিজেপি প্রার্থীর অভিযোগ, তাঁর বাড়ি লক্ষ্য করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করেন। তার সঙ্গে চলে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ। পরিস্থিতি সামাল দিতে বেরিয়ে আসেন পবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিআইএসএফ জওয়ান যোগেশ শর্মা। তখনই আচমকাই গুলির শব্দে কেঁপে ওঠে এলাকা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান যোগেশ রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। তাঁর পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গিয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আহত জওয়ানকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ওপরে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছে বিজেপি। তাঁদের দাবি, দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে পরিকল্পিত সন্ত্রাস চালাতেই এই হামলা করা হয়েছে। তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। 

ভাটপাড়া কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অমিত গুপ্ত বলেন, “কর্মীদের ওপরে হামলার খবর পেয়ে থানায় যাওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রতিবাদ জানালে অর্জুন সিংহ এবং তাঁর দলবল ফের তৃণমূল কর্মীদের এপরে চড়াও হয়।” কে গুলি চালাল তা এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ভাটপাড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দফায় রুটমার্চ করা হচ্ছে। 


Share