IPS Transfer

উর্দি পরেই ধর্মীয় স্লোগান! সংবাদমাধ্যমে‍ ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়তেই শুরু বিতর্ক, অতিরিক্ত সুপার পদ থেকে অপসারিত বুশরা বানো

আপাতভাবে তাঁর ভিডিয়োর বক্তব্য নিয়ে কোনও বিতর্ক না থাকলেও, বার্তার শুরু এবং শেষে ‘আস্সালামআলেকুম, ‘ইনশাল্লাহ’ এবং ‘জাজাকাল্লাহ’-র মতো শব্দ বলা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

আইপিএস অফিসার বুশরা বানো।
নিজস্ব সংবাদদাতা, খড়্গপুর
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৯

সরানো হল খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বুশরা বানোকে। তাঁর জায়গায় খড়্গপুরে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হয়েছেন পার্থ ঘোষ। তিনি এর আগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার ছিলেন। বুশরা বানোকে রাজগঞ্জের ব‍্যাটেলিয়নে ডেপুটি কমান্ড্যান্ট করে বদলি করা হয়েছে।

রাজ‍্য সরকারের তরফে এটাকে নিয়মিত বদলি বললেও উর্দি পরে সামাজমাধ‍্যমে ধর্মীয় মন্তব‍্য করায় বুশরা বানোকে নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুলিশের উর্দিতে থাকা বুশরাকে ওই ভিডিয়োতে বলতে শোনা যায়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক কোচিং অ্যাকাডেমি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে সাহায্য করে। ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হিসেবে তিনিও কতটা সহায়তা পেয়েছিলেন সেই কথাও রয়েছে ওই ভিডিয়ো বার্তায়। আপাতভাবে তাঁর ভিডিয়োর বক্তব্য নিয়ে কোনও বিতর্ক না থাকলেও, বার্তার শুরু এবং শেষে ‘আস্সালামআলেকুম, ‘ইনশাল্লাহ’ এবং ‘জাজাকাল্লাহ’-র মতো শব্দ বলা নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।

‘হিন্দু লিগ্যাল ফান্ড’ নামে একটি সংগঠন তাদের সমাজমাধ‍্যমে ওই ভিডিয়োর ক্লিপিং পোস্ট করে প্রশ্ন তুলেছে— কী করে একজন সরকারি আধিকারিক উর্দি পরে তাঁর সরকারি পদ উল্লেখ করে এই শব্দগুলো ব্যবহার করেন। তাদের আরও প্রশ্ন ‘বন্দে মাতরম’ বা ‘জয় হিন্দ’-এর মতো সাধারণত সরকারি আধিকারিকেরা যে শব্দ ব্যবহার করে থাকেন তা কেন নেই বুশরার বার্তায় করলেন না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তাঁরা। এই সংগঠনটি সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে জানিয়েছে, তারা এ বিষয় নিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছে। পাশাপাশি আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে উপযুক্ত পদক্ষেপ দাবি করেছে। এমন বিতর্ক শুরু হওয়ার পরেই তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বুশরা বানো উত্তরপ্রদেশের কনৌজের বাসিন্দা। আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করেন। এর পরে সৌদি আরবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপকের চাকরি করতেন। সেই চাকরি ছেড়ে দেশে ফিরে তিনি কোল ইন্ডিয়ার চাকরিতে যোগ দেন। সেই চাকরি করতে করতেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দেন। সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতীয় রেলের ট্রাফিক সার্ভিসের আধিকারিক হিসাবে নিযুক্ত হন। যদিও সেই চাকরি করতে করতেই তিনি উত্তরপ্রদেশের প্রশাসনিক পরীক্ষায় সফল হয়ে মহকুমাশাসক হিসাবে কাজে যোগ দেন। দ্বিতীয় বার তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষা দিয়ে পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন।


Share