Bus Strike

এখনই নয়, পুজোর পরে! পুলিশের আশ্বাসে সাময়িক স্থগিত নদিয়া জেলার বাস ধর্মঘট, সুরহা না হলে বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

নদিয়ায় টোটোর দাপটের প্রতিবাদে বন্ধ থাকা বাস পরিষেবা প্রশাসনের আশ্বাসে ফের চালুর সিদ্ধান্ত বাস মালিকদের। পুজোর পরে হাইওয়েতে টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে দাবি সংগঠনের। তবে সমস্যা না মিটলে পুজোর পর আরও বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বাস মালিকদের।

নদিয়ায় বাস ধর্মঘট প্রত্যাহার।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৫

এখনই নয়, পুজোর পরে। পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের তরফে আশ্বাসের পরে ধর্মঘট উঠে যায়। তবে টোটোর দাপট হাইওয়েতে যদি অব‍্যাহত থাকে তা হলে আরও বড় আন্দোলনের যাওয়ার হুঁশিয়ারি সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। 

বেআইনি ভাবে জাতীয় এবং রাজ‍্য সড়কে টোটোর দাপটে অতিষ্ঠ হয়ে সোমবার সকাল থেকে গোটা জেলায় বাসের পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে যায়। বাস মালিকদের অভিযোগ, পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকা থাকা সত্ত্বেও রাজ‍্য এবং জাতীয় সড়কে টোটো চলছে। যেখানে সেখানে দাঁড়িয়ে প‍্যাসেঞ্জার তুলে নিচ্ছে। এর ফলে বাসে প‍্যাসেঞ্জার হচ্ছে না। দৈনিক জ্বালানির খরচ তুলতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। যা খরচ উঠছে তাতে বাসকর্মীদের বেতনও দেওয়া যাচ্ছে না।

এ সব দাবিদাওয়া নিয়ে সোমবার সকাল থেকে নদিয়া জেলায় বাস পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। কালনাঘাট, কাটোয়া, কৃষ্ণনগর, শান্তিপুর-সহ একাধিক রুটে বাস পরিষেবা বন্ধ হয়ে যায়। এর জেরে ভোগান্তির শিকার হন সাধারণ মানুষ। তাঁদের আরও অভিযোগ ছিল, পরিবহণ দফতরের নির্দেশিকা অমান্য করে পুলিশের মদতেই টোটো রাজ‍্য এবং জাতীয় সড়কে চলাচল করছে। পুলিশের সামনে দিয়ে টোটো চলে গেলেও কোনও ব্যবস্থা তাঁরা নিচ্ছেন না।

বাস এবং মিনিবাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপনারায়ণ বোস বলেন, “প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁরা এই সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছেন। আস্তে আস্তে সমস্যা মিটবে বলে প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এখন নয়। পুজোর পরে তা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমরা বিষয়টিকে রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে জানিয়েছি। তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সময় চেয়েছি।” 

বাস কর্মচারীরা জানান, কৃষ্ণনগরের বাস মালিকদের মারফত তাঁরা জানতে পেরেছেন যে, পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসকের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। জেলা প্রশাসন থেকে তাঁদের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামী সাত দিনের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলে দাবি করেন। তা পাওয়ার পরেই বুধবার থেকে ফের বাসের পরিষেবা পুনরায় চালু করবেন বলে জানিয়েছেন তাঁরা। 

এক বাস কর্মচারী বলেন, “একটি বাস রাস্তায় নামাতে প্রতিদিনের জ্বালানির খরচ রয়েছে। পাশাপাশি তিনজন স্টাফকে বেতন দিতে হয়। সব মিলিয়ে প্রায় পাঁচ হাজার ২৫০ টাকা খরচ হয়। কিন্তু যাত্রীর অভাবে এই খরচের টাকাই উঠছে না। ফলে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।”

তবে পুজোর কয়েকটা দিনেই প্রতিদিনের তুলনায় বেশি মানুষ যাতায়াত করেন। পুজোর কটা দিনেও এমনটা চলতে যদি থাকে তা হলে কী ভাবে লাভ হবে তা নিয়েও সন্দিহান বাসের মালিকরা। যদিও প্রশাসনের ওপরেই বাসের মাসিকেরা আস্থা রাখছেন আপাতত।


Share