BJP

তোলাবাজি বরদাস্ত নয়! ভাবমূর্তি স্বচ্ছ রাখতে দলীয় বিধায়কদের নির্দেশ বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের, দুই সাংগঠনিক জেলা নিয়ে বৈঠক করলেন শীর্ষ নেতারা

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের বিজেপির দফতরে একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন অমিত মালব‍্য, রাজ‍্যের সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী, প্রবাল রাহা এবং লকেট চট্টপাধ‍্যায়।

বিজেপির সদর দফতরে বৈঠকে সুনীল বনসল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৯:২৮

দু’মাসের একটু বেশি হয়েছে দল ক্ষমতায় এসেছে। এর মধ্যেই রাজ‍্যের একাধিক জায়গা থেকে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। এ বার তা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে বার্তা এসে গেল। স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তোলাবাজি কোনও ভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। হলেই দল ব‍্যবস্থা নেবে। প্রসাশন তাদের মতো করে পদক্ষেপ করবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সল্টলেকের বিজেপির দফতরে একটি বৈঠক হয়েছে। সেই বৈঠকে বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল উপস্থিত ছিলেন। ছিলেন অমিত মালব‍্য, রাজ‍্যের সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী, প্রবাল রাহা এবং লকেট চট্টপাধ‍্যায়। সেই বৈঠকের ছবি সমাজমাধ‍্যমে পোস্ট করেছে বিজেপি।

বিজেপি সূত্রের খবর, এ দিনের বৈঠকে মূলত দু’টি সাংগঠনিক জেলার নেতাদের ডাকা হয়েছিল। বারাসত এবং দক্ষিণ কলকাতার সাংগঠনিক জেলার নেতারা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে তোলাবাজির অভিযোগ নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। স্থানীয় নেতা-কর্মীরা যাতে এলাকায় যাতে কোনও ভাবেই তোলাবাজি এবং চাঁদাবাজিতে জড়িয়ে না পড়েন তা নিয়ে কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

বিজেপি সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, নেতা-কর্মীদের দলের নিয়ম মেনেই কাজ করতে হবে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। যদি এমন কোনও ঘটনায় তাঁরা জড়িয়ে পড়েন, তাহলে তা কোনও ভাবেই যে দল বরদাস্ত করবে না তা-ও বুঝিয়ে দিতেছেন সুনীল বনসল। দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগ সামনে এলেই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। সেক্ষেত্রে কারও কোনও অনুরোধ তখন কাজ করবে না বলেও মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজেপি ক্ষমতায় আসার পরে বিভিন্ন এলাকায় তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা ‘জার্সি’ বদল করে গেরুয়া শিবিরে এসেছে। এই নিয়ে একাধিক বার রাজ‍্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সতর্ক করেছেন। বিজেপির যে ‘তৃণমূলীকরণ’ হতে দেওয়া হবে না তা নিয়েও একাধিক বক্তব্য শমীক ভট্টাচার্য রেখেছেন। কিন্তু দেখা গিয়েছে, কোথাও বালির গাড়ি দাঁড় করিয়ে ২০০ টাকা আদায় করা, আবার কোথাও পলাতক তৃণমূলের পঞ্চায়েত প্রধানকে ফিরিয়ে আনার মতো অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে যে ‘পাল্টা ডিম খাওয়ার’ হুঁশিয়ারিও শমীক ভট্টাচার্য দিয়েছিলেন।

গত কয়েক দিন ধরে দক্ষিণ কলকাতা এবং বারাসত সাংগঠনিক জেলায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি অভিযোগ রাজ‍্য বিজেপির কাছে জমা পড়েছে। গতকাল রাজ‍্য বিজেপি ২২ জন কর্মীকে দল থেকে সাসপেন্ড করেছে। তার আগে ২৫০ জনকে শো-কজ করা হয়। এঁদের মধ্যে ১০২ জনকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। এই ৮০ জনের উত্তর গ্রহণযোগ্য হওয়ায় তাঁদের শো-কজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অন্য দিকে, ২২ জন কর্মী সদুত্তর দিতে পারেননি। ফলে তাঁদের বিজেপি সাসপেন্ড করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের নির্দেশে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিটি সাসপেন্ড হওয়া কর্মীকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দেন।

পালাবদলের পরে তৃণমূল কংগ্রেসের বহু নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছে। গ্রেফতারও করা হয়েছে। কিন্তু পাল্টা রাজ‍্যের বিজেপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, চাঁদা চেয়ে হুমকির অভিযোগ উঠেছে। তা নিয়ে কড়া ভাষায় দলের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন রাজ‍্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তিনি বলেছিলেন, “বিচ্যুতি দু-এক জায়গায় আছে। কিন্তু কোনও বিচ্যুতিকে দীর্ঘদিন মানা যাবে না। সরকারের নীতি এ ব্যাপারে 'জিরো টলারেন্স'। আরও ১৫ দিন দেখছি আমরা। তারপর যেটা হবে বুঝতে পারবেন।"

একই সুরে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও বলেছিলেন, "তোলাবাজির সংস্কৃতি এত সহজে উঠে যাবে ভাবার কোনও কারণ নেই। পুলিশকেও পদক্ষেপ বলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযোগ এলে গ্রেফতার করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে বলা হয়েছে। দল সব নজর রেখেছে। ভাববেন না এরকম হয়েই যাবে। ছ’মাস যেতে দিন, তারপরে দল সব হিসাব করবে।"


Share    

BJP