Pakistani Agent

পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, শেয়ার করা হয়েছে ওটিপি, পিংলা থেকে গ্রেফতার শেখ মুরসালিন-সহ দু’জন

ধৃতদের পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম শেখ মুরসালিন এবং গৌতম খাঁড়া। তাঁদের রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেফতার করেছে। বুধবার ধৃতদের আদালতে হাজির করানো হয়।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ২৮ মে ২০২৬ ০৪:৪৮

বুধবার পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই দু’জনকে পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলা থেকে গ্রেফতার করেছে রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ। ধৃতেরা হল, ক্ষীরাই পঞ্চায়েতের বাসিন্দা শেখ মুরসালিন ও সুরচকের গৌতম খাঁড়া। মঙ্গলবার দিনভর জেরা করার পর রাতে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। 

পুলিশ সূত্রের খবর, দু’জনের কাছ থেকে গোয়েন্দারা একাধিক মোবাইল ফোন এবং প্রচুর ‘প্রি-অ্যাক্টিভেটেড’ সিম কার্ড উদ্ধার করেছে। ধৃত দু’জনকে বুধবার বিধাননগর আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১৪ দিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার ধৃতদের সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে রাজি হননি। এসটিএফও একটি মামলা রুজু করেছিল। সেই মামলায় দু’জনকে ও পিংলা থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করে নিয়ে গিয়েছে। ওই দু’জনের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। 

জানা গিয়েছে, গৌতমের মোবাইল সংযোগের ব্যবসা রয়েছে। সেই সূত্রে তার কাছে অনেকেই মোবাইলের সিম কার্ড কিনতে আসতেন। গৌতম সেই সুযোগে  গ্রাহকদের পরিচয়পত্র রেখে দিত। তা দিয়ে পরে নতুন সিম কার্ড চালু করত। ওই সব সিমের নম্বর গৌতম মুরসালিনের কাছে পাঠাত। নুরসালিন সেগুলি পাঠিয়ে দিত পাকিস্তানের আইএসআই এজেন্টদের। ওই এজেন্টরা সেই সব নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট খুলত। কিন্তু সিম কার্ড যে হেতু মুরসালিনের কাছে থাকত, তাই ওটিপিও তার কাছেই আসত। মুরসালিন তা জানিয়ে দিত আইএসআই এজেন্টদের। মুরসালিন ওটিপি পিছু তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে পেত বলে জানতে পেরেছে বলে জানতে পেরেছেন গোয়েন্দারা। 

জানা গিয়েছে, মুরসালিন একাধিক বার তাইল‍্যান্ডে গিয়েছিল। তার সেই খরচ বহন করেছিল পাকিস্তানের এজেন্টরা। সে পাকিস্তানেও গিয়েছিল কি না, তা জানতে তার নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, গত চার বছরের বেশি সময় ধরে এই চক্রটি পিংলায় সক্রিয় ছিল। ওই সময়ে প্রায় চারশোটি সিমকার্ড চালু করেছিল বলে অনুমান করছে গোয়েন্দারা।

গৌতম ও মুরসালিন বেশ কয়েক বছর এলাকায় ঘুরে ঘুরে সিম কার্ড বিক্রি করতেন। মূলত সংখ্যালঘু এলাকাতেই সিমকার্ড বিক্রি করা হত। গৌতমের এক পড়শি বলেন, “দরিদ্র পরিবারের ছেলে গৌতম। স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। বছর কয়েক আগে একটি ছোট্ট দোকান খুলেছিল। তাতেই সিম বিক্রি করত। তবে কোথাও সিম বিক্রি করতে যেত। কোনও দোকান ছিল না। মূলত মুসলিম এলাকায় গিয়ে সিম বিক্রি করত। অনেককে যেমন নথি দিয়ে সিম নিতে, আবার নথি ছাড়াও সিম পাওয়া যেত।”

প্রসঙ্গত, সপ্তাহখানেক আগে বেনিয়াপুকুরের বাসিন্দা রিয়াজ নামে এক ব্যক্তিকে পাকিস্তানি চর সন্দেহে গ্রেফতার করা হয়। সে মূলত জুতোর ব্যবসার আড়ালে ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে পাকিস্তানে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করার জন্য ওটিপি সরবরাহ করত বলে অভিযোগ। পহেলগাঁমে ইসলামিক জঙ্গি হামলায় রিয়াজের যোগ আছে বলে এনআইএ জানিয়েছিল।


Share