Baruipur Incident

বারুইপুর নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলায় ঘটনাস্থলে তিন অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল সিট, নমুনা সংগ্রহে ফরেন্সিক দলও

তদন্তে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ফরেন্সিক দলও। তারা এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে।

ঘটনার পুনর্নির্মাণে পুলিশ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০৪:২৫

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। তদন্তে সহায়তার জন্য ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল ফরেন্সিক দলও। তারা এলাকা পরিদর্শন করে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকাকে রেললাইনের ধারে যে জায়গায় ধর্ষণ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ, মঙ্গলবার সেখানে নিয়ে গিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করেন তদন্তকারীরা। এ দিন তিন অভিযুক্ত কবীর মোল্লা, আনন্দ সর্দার এবং দিবাকর সর্দারকে ঘটনাস্থলে হাজির করা হয়। পুনর্নির্মাণের সময় দু'জন সাক্ষীকেও উপস্থিত রাখা হয়েছিল।

উল্লেখ্য, এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে একই ঘটনায় পুনর্নির্মাণের জন্য মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই পুলিশি এনকাউন্টারে তার মৃত্যু হয়। পুলিশের দাবি, পুনর্নির্মাণ চলাকালীন এক তদন্তকারী অফিসারের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে প্রভাস। অভিযোগ, সে এক রাউন্ড গুলিও চালায়। এরপর আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায় পুলিশ, তাতেই মৃত্যু হয় প্রভাসের। সেই ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ পর বাকি তিন অভিযুক্তকে নিয়ে ফের ঘটনার পুনর্নির্মাণ করল তদন্তকারী দল।

গত শনিবার বারুইপুরে নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের সঙ্গে কথা বলে তিনি আশ্বাস দেন, ধর্ষণ-খুনের ঘটনার তদন্ত তাঁর সরাসরি নজরদারিতেই হবে এবং এমনভাবে তদন্ত এগোনো হবে, যা দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। উল্লেখ্য, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীর দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। তাঁর এই আশ্বাসের পর নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘যে ভাবে তদন্ত এগোচ্ছে, তাতে আমরা খুশি। মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস পেয়েছি।’

প্রসঙ্গত, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রথম মামলা নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে। দ্বিতীয়টি, প্রতিবাদ-বিক্ষোভ চলাকালীন গণপিটুনিতে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলের মৃত্যুর ঘটনায়। তৃতীয় মামলা পুলিশের উপর হামলা, রাস্তা অবরোধ এবং সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে। আর চতুর্থ মামলা রেল অবরোধ এবং রেলের সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের করা হয়েছে।


Share