Baruipur Incident

বারুইপুর কাণ্ডে খুনের সঙ্গে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা, তিন গ্রেফতার, দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠাল আদালত

সোমবার বারুইপুর আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও সংযোজন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বারুইপুর কাণ্ডে খুনের সঙ্গে যুক্ত হল গণধর্ষণের ধারা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৬:৫৫

নিখোঁজের পর থেকেই পরিবারের অভিযোগ ছিল, ১২ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। বারুইপুরে কিশোরীর দেহ উদ্ধারের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলায় গণধর্ষণের ধারা ৭০(২) যুক্ত করল পুলিশ। সোমবার বারুইপুর আদালতে খুনের ধারার পাশাপাশি গণধর্ষণের ধারাও সংযোজন করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে সোমবার আদালতে তোলা হলে পুলিশ ১৪ দিনের হেফাজতের আবেদন জানায়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে। আগামী ২০ জুলাই তাঁদের ফের আদালতে হাজির করানো হবে। এ দিকে, সোমবার গ্রেফতার হওয়া তৃতীয় অভিযুক্তকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।

বারুইপুর কাণ্ডে প্রথমে প্রভাস মণ্ডল এবং পরে দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাঁদের বারুইপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের স্বার্থে এখনও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য তদন্তমূলক প্রক্রিয়া বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের মুক্ত অবস্থায় রাখলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই যুক্তিতে দুই অভিযুক্তের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

বারুইপুরের ঘটনায় প্রথমে প্রভাস মণ্ডল এবং পরে দিবাকর সর্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাঁদের দু’জনকে বারুইপুর আদালতে তোলা হলে সরকারি আইনজীবী আদালতে জানান, মামলাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ। তদন্তের স্বার্থে এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নমুনা সংগ্রহ, ফরেনসিক পরীক্ষা এবং অন্যান্য বৈজ্ঞানিক তদন্ত বাকি রয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তরা মুক্ত থাকলে তথ্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেই কারণে দুই অভিযুক্তকে ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার আবেদন জানানো হয়। আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করেছে।

এ দিকে, মামলায় পকসো আইনের ধারা যুক্ত হওয়ায় আইনি মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এই পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানি চলতে পারে কি না। সোমবার দুই অভিযুক্তের পক্ষে আদালতে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। অন্য দিকে, একই ঘটনায় সোমবার আনন্দ সর্দার নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁকে মঙ্গলবার আদালতে পেশ করা হবে।

বারুইপুর কাণ্ডে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-র ৬৫ (ধর্ষণ), ৭০(২) (গণধর্ষণ), ১০৩(১) (খুন), ২৩৮ (তথ্যপ্রমাণ লোপাট) এবং ৬১ (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র) ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পাশাপাশি, পকসো আইনের ৬ নম্বর ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথমে নাবালিকাকে অপহরণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে প্রভাসকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতেই একটি পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। এরপর তদন্তের অগ্রগতিতে দিবাকরকে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার এই মামলায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে আরও এক অভিযুক্ত আনন্দকেও গ্রেফতার করে পুলিশ।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, ‘জঘন্যতম’ যে অপরাধ হয়েছে, তাতে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হবে। তাঁর কথায়, ‘‘বাবা যা যা চেয়েছেন, সব করবে মুখ্যমন্ত্রী। আমি খুশি, ওঁরা আস্থা রেখেছেন।’’ রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘‘কাকে মেরেছে, কী ধরনের মানুষকে মেরেছে, কোন জাতের মানুষকে মেরেছে, সেগুলি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। যে কোনও মহিলার উপরে যদি অত্যাচার করা হয়, তা হলে দোষীকে ছাড়া হবে না। এটা আগের যে কোনও সরকার নয়।’’


Share