Baruipur Incident

বারুইপুরে গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ, ঘটনার পরে কী ভূমিকা পুলিশের, ৭২ ঘন্টার মধ্যে রিপোর্ট তলব মুখ্যমন্ত্রীর

বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ। তাঁর কথায় “যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট।” পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, “নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরাও আমার ওপর আস্থা রেখেছে। এটাই আমার প্রাপ্তি।”

গণপিটুনির ঘটনায় কাওকে রেয়াত নয়।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা
  • শেষ আপডেট: ০৭ জুলাই ২০২৬ ০৯:১৭

বারুইপুর কান্ডে আন্দোলনের নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে হত‍্যা করা হয়েছিল। সেই যুবক সম্পূর্ণ নির্দোষ। মঙ্গলবার রাজ‍্য পুলিশের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পরে এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পাশাপাশি গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনার পরে পুলিশের কী ভূমিকা তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। তদন্তে কী কী  অগ্রগতি হয়েছে, তা নিয়ে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তকে রিপোর্ট দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মঙ্গলবার দুপুরে বারুইপুরের এসপি অফিসে যান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে শুধুমাত্র নির্যাতিতার পরিবার নয়, গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের সঙ্গেও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেন, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ। তাঁর কথায় “যুবকের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আমি সন্তুষ্ট।” পাশাপাশি তিনি এ-ও বলেন, “নির্যাতিতার পরিবারের সদস্যরাও আমার ওপর আস্থা রেখেছে। এটাই আমার প্রাপ্তি।”

রবিবারের ঘটনার ওই এলাকায় কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। অভিযুক্ত সন্দেহে ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবককে গণপিটুনি দিয়ে পিটিয়ে হত‍্যা করা হয়। ভাঙচুর থেকে পুলিশের গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনায় তিনজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন। সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “পুলিশ ২০০ জনকে সিসি ক্যামেরা দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।” একই সঙ্গে যারা উস্কানি দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করা হবে বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, এই ঘটনায় নেপথ্যে রাজনৈতিক উস্কানি রয়েছে। নাম না করে তৃণমূল এবং সিপিএমকে নিশানা করে বলেন, “পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি, যারা তান্ডব চালিয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা যুক্ত করতে হবে। যে বা যারা সমাজমাধ‍্যমে দর্শক বৃদ্ধির জন‍্য তা প্রচার করেছে যুক্ত তাদের কাউকে ছাড়া হবে না।”

কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় ইতিমধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবার চার জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেছে। বাকি অভিযুক্তকেও দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে নির্যাতিতার পরিবারের সূর্যপুরে একটি পুলিশ আউটপোষ্টের দাবি জানায়। মুখ‍্যমন্ত্রী তাঁদের কথা রেখেছেন। পুলিশকে সেখানে আউটপোষ্ট খোলার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, আগামী দু’সপ্তাহের মধ্যে তিনি আবার এখানে আসবেন। এসে নির্যাতিতা এবং গণপিটুনির জেরে নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন। সেই দিনই আউটপোষ্টের উদ্বোধন করবেন। সেখানে বাড়ি ভাড়া নিয়ে তা করতে পুলিশকে নির্দেশ দিতেছেন।

এ দিন সকালে রাজ‍্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত ঘটনাস্থলে যান। সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিবারের অভিযোগ ছিল, শনিবার রাতে তাঁদের মেয়ের নিখোঁজ ডায়েরি করা হলেও পুলিশ তেমন গুরুত্ব দেয়নি। স্থানীয়েরাই সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ দেখে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ যে আসেনি তা নয়, তবে দেরি করে এসেছে বলে অভিযোগ করে। কেন তা হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে মঙ্গলবার রাজ‍্য পুলিশের ডিজি জানান।

ডিজির সুরেই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি সব খতিয়ে দেখেছি। আগের দিন রাতে মিসিং ডায়েরি হয়েছিল। তার পরে কী কী হয়েছে, সব জেনেছি। সরকার কী কাজ করল, তা আপনারা জানতে পারবেন। গোটা রাজ্যের সব থানার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, সুপ্রিম কোর্টের গাইডলাইন মেনে ব্যবস্থা নিতে হবে।” তিনি স্পষ্ট জানান, পুলিশের তরফে এক শতাংশ শিথিলতা ধরা পড়ে সরকার পদক্ষেপ করবে। এই বিষয়ে আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে রাজ‍্য পুলিশের ডিজিকে রিপোর্ট জমা দিতে বলেছেন।


Share