Baruipur Incident

বারুইপুর গণপিটুনি মামলায় আরও এক গ্রেফতার, ধৃতের সংখ্যা বেড়ে আট, সূর্যপুর থেকে ধরা পড়ল 'কেলে', তদন্তে আরও ধরপাকড়ের ইঙ্গিত

বুধবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এই নিয়ে বারুইপুরের গণপিটুনির ঘটনায় মোট আট জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ১৫ জুলাই ২০২৬ ০১:৪৩

বারুইপুরের গণপিটুনির ঘটনায় আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতের নাম সাকিম লস্কর ওরফে ‘কেলে’। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সূর্যপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার তাকে বারুইপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। এই নিয়ে বারুইপুরের গণপিটুনির ঘটনায় মোট আট জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ।

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃতকে আদালতে পেশ করে তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানাবেন তদন্তকারী আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই বারুইপুরে ইন্দ্রজিৎ মণ্ডলকে গণপিটুনির ঘটনায় আর কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা শুরু করেছে পুলিশ। তদন্তে নতুন তথ্য সামনে এলে আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলেও পুলিশের অনুমান।

শনিবার বারুইপুরে গিয়ে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তির হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। এরপরই তদন্তে গতি আনে পুলিশ এবং শুরু হয় জোরদার ধরপাকড়।

গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিতের পরিবারকে শনিবার আর্থিক সহায়তা ও সরকারি চাকরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ দিন ইন্দ্রজিতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, মৃত যুবকের দাদাকে সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরিও দেওয়া হয়েছে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘নাম-পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে। ৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়েছে। যাঁরা ভোটে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাঁদের উস্কানিতেই এই ঘটনা ঘটেছে। ভিডিয়োয় যাঁদের দেখা গিয়েছে, তাঁদের সকলকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। বকখালি ও দিঘা থেকেও অভিযুক্তদের ধরে এনেছে পুলিশ।’’ অন্য দিকে, মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইন্দ্রজিতের পরিবারের দায়িত্ব রাজ্য সরকার নিয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে তাঁদের বাড়ির মেরামতের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।

গত রবিবার বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তাকে গণধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর স্থানীয়রা বিক্ষোভে সামিল হন এবং রেল অবরোধও করেন। সেই সময় সন্দেহের বশে ইন্দ্রজিৎ নামে এক যুবককে গণধোলাই দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ইন্দ্রজিতের পরিবারের দাবি, তিনি ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে মারধর করা হয়েছিল।

গণপিটুনির ঘটনায় প্রথমে দু'জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরে আরও তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে এই পাঁচ জনই বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। এ দিকে, শুভেন্দু অধিকারী বারুইপুর সফর করে যাওয়ার পর শনিবার আরও দু'জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত মোট সাত জন ধরা পড়েছেন। ধৃতরা হলেন ফারুক সর্দার, রাজেশ সর্দার, শরিফুল মল্লিক, সাবিউদ্দীন বৈদ্য, ফরিদ শেখ, আবু সিদ্দিক সর্দার এবং শামিম আলি খান। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার সংশ্লিষ্ট ধারায় বেআইনি জমায়েত, অশান্তি সৃষ্টি, সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা দেওয়া, ইচ্ছাকৃতভাবে জনসাধারণকে আঘাত করা এবং গণপিটুনির মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।


Share