Baruipur Incident

'দোষীদের কাউকে রেয়াত নয়', নাবালিকার বাবাকে মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাস, বারুইপুরে উত্তেজনার মাঝে খুনের মামলা, তদন্তে সিট

একটিতে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলাটি গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

বারুইপুরের ঘটনায় গঠন করা হল সিট।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৭

বারুইপুরে নাবালিকার রহস্যজনক মৃত্যু ঘিরে রবিবার দিনভর থমথমে ছিল সমগ্র এলাকা। ঘটনার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা একাধিকবার রাস্তা ও রেল অবরোধ করেন। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বিক্ষোভ চলাকালীন গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, ওই যুবককে সন্দেহভাজনদের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল এবং তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে পুলিশের তরফে এখনও কোনও সরকারি নিশ্চিতকরণ হয়নি। এ দিকে, বিকেলে নিহত নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর, তিনি মৃতের পরিবারকে আগামী মঙ্গলবার নবান্নে আসার জন্য অনুরোধ করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ'টা পর্যন্ত ধর্ষণের ধারা যোগ করা হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সূত্রের দাবি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল এবং এর নেপথ্যে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখবে এই দল। পাশাপাশি ঘটনাকে ঘিরে আরও দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। একটিতে পুলিশকর্মীদের উপর হামলা ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্য মামলাটি গণপিটুনির ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যেখানে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এই ঘটনায় মোট চার জন জড়িত। তাঁদের মধ্যে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত দু’জন পলাতক। ইন্দ্রজিৎ তাঁতি নামে এক যুবককে স্থানীয়রা ধরে ফেলে গণপিটুনি দেয়। সেই মারধরের জেরেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, নাবালিকাকে শেষবার প্রভাস মণ্ডল নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি স্থানীয়দের। এরপর তাঁকেও আটক করে বারুইপুর থানায় নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।

ঘটনার পর নাবালিকার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সব অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হবে এবং এই ঘটনায় কোনও দোষীকে কোনওভাবেই রেয়াত করা হবে না বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান নাবালিকার বাবা। অন্য দিকে, দফায় দফায় পথ ও রেল অবরোধের জেরে উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন আইজি (প্রেসিডেন্সি রেঞ্জ) কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই। তিনি আশ্বাস দেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে। পুলিশের এই আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করেন বিক্ষোভকারীরা।

শনিবার বিকেলে কিছু খাবার কিনতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ওই নাবালিকা। এরপর থেকেই তার আর কোনও খোঁজ মেলেনি। পরিবারের সদস্যরা রাতভর খোঁজাখুঁজি করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। রবিবার সকালে বাড়ির কাছেই একটি জলাশয় থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়।


Share