Encounter

বারুইপুরের পর ফের গাইঘাটা! ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাস এনকাউন্টারে খতম, পুলিশকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল দাবি

গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ফের পুলিশের এনকাউন্টার ঘিরে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

অভিযুক্তের নাম প্রহ্লাদ দাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, গাইঘাটা
  • শেষ আপডেট: ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৪০

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পুনরাবৃত্তি গাইঘাটায়! ধর্ষণ ও খুনের অভিযোগে ধৃত যুবকের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণ সেরে ফেরার পথে পুলিশের সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে অভিযুক্ত পালানোর চেষ্টা করেন। বাধা পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে তিনি গুলি চালান। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পালটা গুলি চালায়। তাতেই গুলিবিদ্ধ হন প্রহ্লাদ। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে বনগাঁ সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় ফের পুলিশের এনকাউন্টার ঘিরে প্রশ্ন ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত রবিবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক কিশোরীর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এক প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে থেকে বিবস্ত্র অবস্থায় ওই কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। জানা যায়, অভিযুক্ত ওই পরিবারেরই আত্মীয়। ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভও দেখান। ঘটনার তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল বা সিট গঠন করে পুলিশ।

সোমবার রাতে তদন্তের স্বার্থে পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনার পুনর্নির্মাণের পর ফেরার পথে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ জানিয়েছে, প্রহ্লাদ এক পুলিশকর্মীর সার্ভিস রিভলভার ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তাঁকে আটকাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালান তিনি। সেই ঘটনায় এক পুলিশকর্মীও আহত হয়েছেন বলে দাবি। এরপর আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পালটা গুলি চালালে গুলিবিদ্ধ হন অভিযুক্ত। পরে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে বারুইপুরে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণ করে খুনের অভিযোগের তদন্তেও একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। ঘটনার পুনর্নির্মাণে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের দাবি অনুযায়ী, বন্দুক ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল। পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর পর পালটা গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। সেই এনকাউন্টার ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উঠেছিল একাধিক প্রশ্ন। এই ঘটনায় কলকাতা হাই কোর্টে মামলাও দায়ের হয়। এ বার গাইঘাটার ঘটনায় ফের একই ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় পুলিশের ভূমিকা ও এনকাউন্টার নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।


Share