Kali Puja

চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পর বাড়তি সতর্কতা! কালীপুজোয় জনঢল সামলাতে দুর্গে পরিণত হচ্ছে বারাসত, ৭ থেকে ১১ নভেম্বর কড়া নিরাপত্তা-নজরদারি

কালীপুজোর চার-পাঁচ দিন বারাসতকে কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ নিয়ে রবীন্দ্রভবনে জরুরি সমন্বয় বৈঠক হয়।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারাসত
  • শেষ আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ০১:০০

দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের পদপিষ্টের ঘটনার পর কালীপুজোয় ভিড় নিয়ন্ত্রণে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত ও মধ্যমগ্রামে কালীপুজো দেখতে প্রতি বছরই ভিড় জমান হাজার হাজার মানুষ। রাতভর মণ্ডপে মণ্ডপে ঠাকুর দেখার টান থাকে দর্শনার্থীদের মধ্যে। সেই ভিড় সামাল দিতে এ বার আরও আঁটসাঁট নিরাপত্তার পরিকল্পনা করেছে বারাসত জেলা পুলিশ। চোরবাগানে অতিরিক্ত ভিড় ও বৃষ্টির জেরে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার কথা মাথায় রেখে কোনও রকম ঝুঁকি নিতে নারাজ প্রশাসন। কালীপুজোর চার-পাঁচ দিন বারাসতকে কার্যত নিরাপত্তার দুর্গে পরিণত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার এ নিয়ে রবীন্দ্রভবনে জরুরি সমন্বয় বৈঠক হয়।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বারাসতের পাইওনিয়ার, কলোনি মোড় ও কেএনসি রেজিমেন্ট-সহ একাধিক কমপ্লেক্সে ভাগ করা হবে পুজো এলাকাকে। কলোনি মোড়ে তৈরি হবে কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম। সেখান থেকেই যশোর রোড, টাকি রোড ও বারাকপুর রোডে নজরদারি চালাবে জেলা পুলিশ। আগামী ৭ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এই বিশেষ ব্যবস্থা। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জে মার্সি, অতিরিক্ত জেলাশাসক, বারাসত ও অশোকনগরের বিধায়ক-সহ বিভিন্ন দফতরের আধিকারিকরা।

প্রশাসন সূত্রে খবর, এ বার বারাসতে ১৯টি এবং মধ্যমগ্রামে ১০টি বড় বাজেটের কালীপুজো হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমডাঙার মা করুণাময়ী কালীমন্দিরেও দর্শনার্থীদের ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রতিটি পুজো কমিটির সঙ্গে সমন্বয় রাখতে আগেই নোডাল অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। মণ্ডপ নির্মাণ, ব্যারিকেড এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সামলাবেন তাঁরাই।

পুজোর দিনগুলিতে যানজট এড়াতে একাধিক রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হবে। কলকাতা থেকে দেগঙ্গাগামী গাড়িকে মধ্যমগ্রাম চৌমাথা থেকে বাদু রোড ধরে যেতে হবে। ডাকবাংলো মোড় থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং চাঁপাডালি থেকে টাকি রোডে চারচাকা গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকবে। জাতীয় সড়কে বাইক চলাচলের অনুমতি থাকবে ১১ নম্বর রেলগেট পর্যন্ত। টাকি রোডে আসা বাইক রাখতে হবে পূর্ব বারাসত স্কুল সংলগ্ন ফাঁকা জায়গা ও বামনমুড়ো মাঠে। সেখান থেকে দর্শনার্থীদের হেঁটেই মণ্ডপে পৌঁছোতে হবে। তবে যশোর রোডে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বাস চলাচলেও বদল আনা হচ্ছে। তিতুমীর বাসস্ট্যান্ডের পরিবর্তে বারাকপুরগামী বাস ছাড়বে আরিফবাড়ি থেকে। জাগুলিয়াগামী বাসের জন্য নির্দিষ্ট হয়েছে আড়দেবক মোড় এবং কলকাতাগামী বাস ছাড়বে রথতলা থেকে। এ ছাড়াও গেঞ্জিমিল ও বামনমুড়ো থেকেও বাস চলবে। নির্দিষ্ট দিনগুলিতে দুপুর ২টো থেকে ভারী যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। তবে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হতে পারে।

মণ্ডপগুলিতে নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও একাধিক নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। প্রতিটি মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরনোর জন্য আলাদা পথ, বড় এক্সিট গেট এবং আপৎকালীন বেরনোর রাস্তা রাখা বাধ্যতামূলক। ঝড়ের আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে ওভারহেড গেটের পরিবর্তে এল-আকৃতির গেট তৈরির পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। এতে ঝড়ের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত, মণ্ডপে আতঙ্ক বা বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে, এমন কোনও ঘোষণা মাইকে করা যাবে না। প্রয়োজনীয় ঘোষণা করবেন শুধুমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিকরা। চোরবাগানের দুর্ঘটনার আগে মাইকে ঘোষণা ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এ বার বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে প্রশাসন। পাশাপাশি বারাসতের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতে অ্যাম্বুল্যান্স ও চিকিৎসক দল মোতায়েন থাকবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াতের সুবিধার্থে চালু করা হবে বিশেষ রেসিডেন্ট পাসের ব্যবস্থাও।


Share