Shootout at Baranagar

পরকীয়ার জেরে খুনের চেষ্টা স্বামীকে! স্ত্রী, বরাহনগরে গুলিকাণ্ডে প্রেমিক-সহ পুলিশের জালে চার জন, উদ্ধার মোটরবাইক

বরাহনগরে পরিবহণকর্মী বিকাশ মজুমদারকে খুন করার ছক কষেছিলেন তার স্ত্রী রেখা মজুমদার। গোপনে প্রেমিক প্রদীপ দে-র সঙ্গে পরিকল্পনা করে ভাড়া করা হয় দুই সুপারি কিলারকে। গত শুক্রবার সকালে বিকাশ আবর্জনা ফেলতে বেরোনোর সময় দুষ্কৃতীরা গুলি চালায়, যদিও তিনি অল্পের জন্য বেঁচে যান। তদন্তে নেমে পুলিশ স্ত্রী, প্রেমিক ও দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ঘটনায় ব্যবহৃত বাইক উদ্ধার করেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বরাহনগর
  • শেষ আপডেট: ২৪ নভেম্বর ২০২৫ ০৩:১৩

স্বামীকে খুন করতে স্ত্রী গোপনে প্রেমিকের সঙ্গে পরিকল্পনা করেছিল। পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে প্রেমিককেই দেওয়া হয় খুনের দায়িত্ব। ভাড়া করা হয়েছিল সুপারি কিলারও। বরাহনগরের গুলিকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য পেল পুলিশ। আক্রান্ত সরকারি কর্মচারীর স্ত্রী ও তার প্রেমিক-সহ চার জন দুষ্কৃতীকে আটক করেছে পুলিশ।

গত শুক্রবার সকালে বরাহনগর পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নর্দার্ন পার্ক এলাকায় গুলি চলে। অভিযোগ, পরিবহণ দফতরের কর্মী বিকাশ মজুমদারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলি কোনও ক্রমে বিকাশের কান ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। বারুদ ছিককে সামান্য জখম হন তিনি। ওই দিন বিকাশবাবু সকালে বাড়ির আবর্জনা ফেলতে গিয়েছিলেন। ফেরার পথে বিকাশবাবুকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয়। তদন্তে নামে বরানগর থানার পুলিশ। 

পুলিশের প্রথম থেকেই সন্দেহ ছিল বিকাশ মজুমদারের স্ত্রীর ওপর। বারংবার বরাহনগর থানার পুলিশ তাকে জেরায় করে। জেরায় ভেঙে পড়ে স্ত্রী রেখা মজুমদার। অবশেষে স্বামীকে মারার চক্রান্তের কথা স্বীকার করেন বলে জানা গিয়েছে। স্বীকারোক্তির পর পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।

পুলিশ সূত্রের খবর, রেখাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ নতুন তথ্য পায়। তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত তার প্রেমিক প্রদীপ দে-কে পুলিশ গ্রেফতার করে। প্রদীপ দে-কে মেটিয়াবুরুজ থানার এলাকার ফতেহপুর থেকে ধরা হয়। স্বামীকে মারতে ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে দুই দুষ্কৃতীকেও সুপারি দেওয়া হয়। এদের একজন সুশান্ত আদক, অন্যজন মহম্মদ শামিম লস্কর। জানা গিয়েছে একজন মেটিয়াবুরুজ ও অপর জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী এলাকার বাসিন্দা।

তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, শামিম গুলি চালিয়েছিল। বাইকে চালকের আসনে ছিল সুশান্ত। ধৃতদের ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করিয়ে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। 

কিন্তু হঠাৎ কেন স্বামীকে মেরে ফেলতে চাইলেন রেখা? তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে বিকাশের স্ত্রী রেখার সঙ্গে তার নিকটাত্মীয় বিবাহিত প্রদীপের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাস দু’য়েক আগে স্ত্রীর এই পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি টের পেয়ে যান বিকাশ। যা নিয়ে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। কিন্তু গোপনে প্রেমিকের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল রেখার। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সপ্তাহখানেক আগে বিকাশ তাঁর স্ত্রীর মোবাইল কেড়ে নিয়ে লুকিয়ে রাখেন। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রেখা। সে প্রেমিক প্রদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বামীকে উচিত শিক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রদীপ যোগাযোগ করে তার পরিচিত সুশান্ত এবং শামিমের সঙ্গে।

রেখার প্রেমিক প্রদীপ জেনেছিল প্রতিদিন সকালে আবর্জনা ফেলতে বেরোন বিকাশ। সেই মতো পরিকল্পনা করেছিল দুষ্কৃতীরা। তার পরেই গত শুক্রবার ভোরে তারা বিকাশের ফ্ল্যাটের সামনেই অপেক্ষায় ছিল। বিকাশ ভ্যাটে আবর্জনা ফেলে ফেরার সময় গুলি চালিয়ে চম্পট দেয় দুই দুষ্কৃতী। পুলিশ তদন্তে নেমে শনিবার রাতে প্রথমে রেখা এবং পরে প্রেমিক-সহ বাকি দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে। উদ্ধার হয়েছে ঘটনায় ব্যবহৃত বাইকটি। যেটির নম্বর প্লেট ঘটনার সময় টেপ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। যাতে সহজেই তাদের কেউ শনাক্ত করতে না পারে।

ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, আরও দু-তিনজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল রেখা। ব্যারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, 'স্ত্রী-সহ চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


Share