School Prayer Music

এবার বিদ্যালয়ে ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’, শিক্ষাঙ্গনে ফিরল কর্মসংস্কৃতি, 'জনগণমন' সঙ্গে উচ্চারিত হলো 'বন্দেমাতরম'

স্কুল খোলার আগে থেকেই বিদ্যালয়ের তরফে প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘বন্দেমাতরম’-এর অডিও ও পাঠ্যরূপ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বিদ্যালয় গুলিতে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে উচ্চারিত হলো ‘বন্দেমাতরম’।
নিজস্ব সংবাদদাতা, নদিয়া
  • শেষ আপডেট: ০১ জুন ২০২৬ ০৮:২৫

রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্ত পালন করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা গেল। রবিবার বিদ্যালয় গুলিতে গ্রীষ্মকালীন ছুটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। সোমবার বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিন। আর সেই প্রথম দিনেই রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে দেখা গেল এক নতুন পরিবেশের ছবি। শিক্ষাঙ্গনে ফিরল কর্মসংস্কৃতি। রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী জাতীয় সংগীত 'জনগণমন'-এর সাথে গাওয়া হল 'বন্দেমাতরম'।

বিগত সরকারের আমলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি। শিক্ষা দফতরের একাধিক বিতর্ক। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর কারাবাসের ঘটনা। বহুমুখী ঘটনায় রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে পড়েছিল। রাজনৈতিক পালাবদল হয়েছে। জাতীয় শিক্ষানীতি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে অভিভাবকরা নতুন করে আশার আলো দেখছেন। সোমবার ছিল মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিন। সেই আবহেই বিদ্যালয়গুলিতে পরিবর্তন স্পষ্ট ছাপ দেখা গেল।

প্রধানমন্ত্রীর বহুল প্রচারিত স্লোগান ‘ভয় আউট, ভরসা ইন’। বিষয়টিকে সামনে রেখে শিক্ষক-শিক্ষিকারা আজ ভয়মুক্ত পরিবেশে বিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। নতুন রাজ্য সরকার শিক্ষাক্ষেত্রে কর্মসংস্কৃতি পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তা দিয়েছিলেন। প্রথম দিন থেকেই বিদ্যালয় গুলিকে সেই নির্দেশিকা মেনে চলতে দেখা গেল। জাতীয় সংগীতের সঙ্গে উচ্চারিত হলো ‘বন্দেমাতরম’। তালিকা থেকে প্রাক্তন রাজ্য সরকারের রাজ্য সংগীত বাদ পড়ল।

বিদ্যালয় সূত্রে খবর, নতুন নির্দেশ কার্যকর করতে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রথম দিন থেকেই ছাত্রছাত্রীরা যাতে সঠিকভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, তার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শান্তিপুর, রানাঘাট-সহ রাজ্যের একাধিক এলাকায় গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেও শিক্ষকদের উদ্যোগ ছিল চোখে পড়ার মত। স্কুল খোলার আগে থেকেই বিদ্যালয়ের তরফে প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যালয়ের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ‘বন্দেমাতরম’-এর অডিও ও পাঠ্যরূপ পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে আলাদা গ্রুপ তৈরি করে অনুশীলনের ব্যবস্থাও করা হয়।

শিক্ষকেরা অনলাইনে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে পড়ুয়াদের স্তোত্র পাঠের মহড়া করিয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে বিদ্যালয় খোলার প্রথম দিনেই বহু স্কুলে ছাত্রছাত্রীরা একসঙ্গে সুর মিলিয়ে ‘বন্দেমাতরম’ পরিবেশন করতে সক্ষম হয়েছে।

নতুন সরকারের অধীনে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন। স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া। জাতীয় শিক্ষানীতির বাস্তবায়ন নিয়ে ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষাঙ্গনের এই নতুন সূচনা আগামী দিনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, সেদিকেই এখন তাকিয়ে রাজ্যের শিক্ষক, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবক সমাজ।


Share