Mahua Maitra

অমিত শাহ, সেনাবাহিনীকে নিয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য, এ বার মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে জারি হল গ্রেফতারি পরোয়ানা

তাঁকে কৃষ্ণনগর আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও শুনানিতেই তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। শেষ হাজিরার দিনও তাঁর অনুপস্থিতির পরই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

মহুয়া মৈত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ০৭:৩৪

ভারতীয় সেনা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যের মামলায় কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করল আদালত। বুধবার কৃষ্ণনগর আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাস এই পরোয়ানা জারি করেন। আদালতে বার বার সমন পাঠানো সত্ত্বেও মহুয়া হাজির না হওয়ায় এই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

মহুয়ার বিরুদ্ধে শুধু সেনাবাহিনী নয়, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিয়েও বিতর্কিত ও অপমানজনক মন্তব্যের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি, মহিলাদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো নিয়েও তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে কৃষ্ণনগরের এক বাসিন্দা আদালতে মামলা করেন। মামলাকারীর আইনজীবী শীর্ষেন্দু দাস জানিয়েছেন, এই মামলায় মহুয়ার নামে একাধিক বার সমন জারি করা হয়েছিল। তাঁকে কৃষ্ণনগর আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও শুনানিতেই তিনি আদালতে উপস্থিত হননি। শেষ হাজিরার দিনও তাঁর অনুপস্থিতির পরই আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

মহুয়ার বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা চয়ন নন্দী। তাঁর হয়ে আদালতে সওয়াল করেন আইনজীবী দাস। তিনি বলেন, ‘‘মহিলাদের তুলসীমালা, বোরখা ও হিজাব পরানো, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সেনাবাহিনী ও জওয়ানদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য, মহিলাদের শালীনতাহরণ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আমার মক্কেল। বার বার সমন পাঠানো সত্ত্বেও কোনও তারিখেই তিনি আদালতে হাজির হননি। জেএম তৃতীয় আদালতের বিচারক দিব্যেন্দু দাসের এজলাস থেকে সশরীরে হাজিরার শেষ দিনে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।’’

মহুয়ার মন্তব্যের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। নারীর শালীনতা ক্ষুণ্ণ করা, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে বিভেদ ও সংঘাত উস্কে দেওয়া, ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত, ভয় দেখানো এবং ঘৃণাভাষণের মতো অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ধারাগুলি মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। সেই মামলাতেই এ বার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র অস্বস্তিতে পড়লেন।

উল্লেখ্য, কিছু দিন আগে অন্য একটি মামলায় আদালতের নির্দেশে নদিয়ার হোগলবেড়িয়া থানায় মহুয়া হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন। পরে তিনি কৃষ্ণনগরের সার্কিট হাউসে রাত কাটান। অভিযোগ, সেখানে রাতে তাঁকে হেনস্থার মুখে পড়তে হয়। প্রশাসনের তরফে তাঁকে রাতে সার্কিট হাউস ছেড়ে দিতে বলা হয়। বাইরে বিজেপির কর্মী-সমর্থকেরাও দীর্ঘক্ষণ বিক্ষোভ দেখান। সার্কিট হাউস থেকেই সমাজমাধ্যমে একের পর এক ভিডিয়ো প্রকাশ করে সাংসদ পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা দেন। পরে এই ঘটনায় তিনি লোকসভার স্পিকারকেও চিঠি দেন।


Share