Anti Corruption Branch

থানায় বসে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে পাকড়াও নজিরগঞ্জর আউটপোস্টের কনস্টেবল, পুলিশকর্মীকে হেফাজতে নিল দুর্নীতি দমন শাখা

এক লক্ষ টাকা শুভময়কে দেয় তাঁরা। আধিকারিকেরা নিজের পরিচয় দিতেই দুটি টাকার বান্ডিল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। যেখানে টাকার বান্ডিলগুলি ফেলে দিয়েছিল, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বাকি টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা।

ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেফতার পুলিশ কনস্টেবল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হাওড়া
  • শেষ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৬ ১২:২৬

ঘুষ নিতে গিয়ে আবার গ্রেফতার আরও এক পুলিশকর্মী। থানার মধ্যেই তিনি ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত কনস্টেবলকে হেফাজতে নিয়েছে রাজ‍্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখা। এই নিয়ে মোট দু’জন পুলিশকর্মী ঘুষ নিতে গিয়ে গ্রেফতার হলেন।

ধৃতের নাম শুভময় মন্ডল। তিনি হাওড়া পুলিশ কমিশনারেটের সাঁকরাইল থানার নজিরগঞ্জ আউটপোস্টের কনস্টেবল ছিলেন। পুলিশ সূত্রের খবর, দুর্নীতির দমন শাখার হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে কেউ অভিযোগ জানায়। সেই মতো এসিবি তাঁকে হাতেনাতে ধরতে ফাঁদ পাতে। গতকাল রাতে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা ছদ্মবেশে অভিযান চালায়। এক লক্ষ টাকা শুভময়কে দেয় তাঁরা। আধিকারিকেরা নিজের পরিচয় দিতেই দুটি টাকার বান্ডিল ছুঁড়ে ফেলে দেয়। তাঁর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার হয়েছে। যেখানে টাকার বান্ডিলগুলি ফেলে দিয়েছিল, সেখানে তল্লাশি চালিয়ে বাকি টাকা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন তদন্তকারীরা।

তিনি টাকা নিয়েছেন, তা নিশ্চিত করতে কাচের বাটি করে জল আনা হয়। নোটগুলিতে ফেনলপথ‍্যালিন লাগানো ছিল। জলে হাত ডোবাতেই তা গোলাপি হয়ে যায়। এর পরেই শুভময়কে গ্রেফতার করে দুর্নীতি দমন শাখা। তিনি ঘুষ নিতেন না বলে দাবি করেন। তাঁকে রাজ‍্য পুলিশ সাসপেন্ড করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

নজিরগঞ্জ আউটপোস্ট এলাকায় অত‍্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকা। সামনেই ডক রয়েছে। ভারী চলাচল করে। তৃণমূল জমানাতেও ওই আউটপোস্টের কয়েক জনের কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল। স্থানীয়দের দাবি, কোনও ব‍্যবস্থা সেই সময় নেওয়া হয়নি।

গত কয়েক দিন আগে ব‍্যাঁটরা থানার সুব্রত সরকার নামে এক পুলিশ আধিকারিককে দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকেরা হাতেনাতে পাকড়াও করে। তিনি ব‍্যাঁটরা থানায় সাব-ইন্সপেক্টর পদে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধেও অভিযোগ ছিল, তিনি থানায় বসে নগদ টাকা ঘুষ হিসেবে নিতেন। তাঁকেও রাজ‍্য পুলিশ সাসপেন্ড করেছে। তাঁর বিরুদ্ধেও বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি এ কথা বারবার বলছে। বিগত সরকারের আমলে এই দুর্নীতি দমন শাখাকে কার্যত অকেজো করে রাখা হয়েছিল। বিজেপি রাজ‍্যের ক্ষমতায় আসার পরে এই বিভাগকে পুনরায় পুনরুদ্ধার করেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।


Share