Baruipur Incident

দেহে একাধিক আঘাত, ক্ষতচিহ্ন যৌনাঙ্গেও, তবে জলে ফেলার সময় বেঁচে ছিলেন কিশোরী! ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে অনুমান পুলিশের

কিশোরীর মৃত্যু জলে ডুবেই হয়েছে বলে পুলিশ মনে করছে। দেহের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট পুলিশের হাতে এসেছে। তবে তার আগে কিশোরীর ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। বাকি সম্ভাব্য কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশের কর্তা জানিয়েছে।

কিশোরীর দেহ আটক চলছে বিক্ষোভ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৯:০৫

জলে ফেলার আগে বেঁচে ছিল কিশোরী। বারুইপুরের ঘটনায় নির্যাতিতার দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। তা থেকে পাওয়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী এমনটাই মনে করছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের খবর, পুকুরে ফেলার আগে পর্যন্ত ওই কিশোরী বেঁচে ছিল। এ ছাড়াও, তাঁর শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যৌনাঙ্গেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইতিমধ্যেই গণধর্ষণের ধারাও এফআআরে যুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে। রবিবার রাতেই বিশেষ ম‍্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কিশোরীর দেহের ময়নাতদন্ত কাঁটাপুকুর পুলিশ মর্গে সম্পন্ন হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশ জানতে পেরেছে, নির্যাতিতার শরীরের একাধিক জায়গায় ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। মাথার সামনে এবং পিছনে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মাথার পিছেনের গভীর আঘাতের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। তদন্তকারীদের অনুমান, ভারী কোনও বস্তু দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল। অথবা শক্ত কোনও জায়গায় মাথা ঠুকে দেওয়া হয়েছিল।

ময়নাতদন্তের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কিশোরীর যৌনাঙ্গে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তা জোরপূর্বক বলেই মনে করছে সিটের তদন্তকারীরা। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিশের অনুমান, প্রথমে প্রথমে ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করা হয়। তার পরে অভিযুক্তেরা নির্যাতন করে। এর জেরে কিশোরী জ্ঞান হারায়। তার পরেই প্রমাণ লোপাট করার চেষ্টা করে। পরে বস্তাবন্দি করে পুকুরের জলে ফেলে দেওয়া হয়।

ময়নাতদন্তের পরে কিশোরীর ফুসফুসে কাদা জল পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এবং তা যথেষ্ট পরিমাণেই পাওয়া গিয়েছে। তদন্তকারী মনে করছেন, যখন কিশোরীকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলা হয়েছে, তখনও তিনি বেঁচে ছিলেন। কারণ খুন করার পরে দেহ জলে ফেলা হলে তাঁর ফুসফুসে এই পরিমাণ জল প্রবেশের সম্ভাবনা কার্যত কম।

পুলিশ সূত্রের আরও জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের কারণে হিসেবে— অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ এবং পুকুরে ঢুবে যাওয়ার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যুর ওপরে জোর দেওয়া হয়েছে। ভিসেরা পরীক্ষার জন্য নমুনা ফরেন্সিকে পাঠানো হয়েছে। তা পেলেই সঠিক কারণ জানা যাবে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, সূর্যপুরের যে পুকুর থেকে কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সোমবার সেখান থেকেই এক ব‍্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃতের নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। তাঁর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, কৃষ্ণকান্ত গত শুক্রবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন। তিনি ওই পুকুরে কীভাবে এলেন তা নিয়ে কারণ অনুসন্ধান শুরু করেছে পুলিশ। পাশাপাশি এই ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় যোগ রয়েছে কি না তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Share