Baruipur Incident

বারুইপুরের সেই পুকুর থেকেই উদ্ধার আরও এক ব‍্যক্তির দেহ, ৭২ ঘন্টা ধরে নিখোঁজ ছিলেন, তদন্তে পুলিশ

বারুইপুরের নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার রাতেই দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এর পরেই গণধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এই পুকুর থেকেই উদ্ধার হয়েছে ওই ব‍্যক্তির দেহ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বারুইপুর
  • শেষ আপডেট: ০৬ জুলাই ২০২৬ ০৭:২২

বারুইপুর কাণ্ডে নতুন মোড়। যে পুকুর থেকে নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয়েছিল, সেই পুকুর থেকেই আরও এক ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হয়েছে। এই ঘটনায় নাবালিকার গণধর্ষণ এবং খুনের ঘটনায় কোনও যোগ রয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। দেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত হালদার। পুলিশ সূত্রের খবর, গত শুক্রবার থেকে কৃষ্ণকান্ত নিখোঁজ ছিলেন। শনিবার থেকে নিখোঁজ হওয়া এক নাবালিকার দেহ উদ্ধার হয় রবিবার সকালে। পরিবারের অভিযোগ, তাঁদের মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়েছে। তার পরে বস্তায় ভরে পুকুরের পাশে পুঁতে রাখা হয়েছিল। সোমবার সোমবার সেখানে তদন্তকারীরা যায়। পানা ভর্তি পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে আরও ব‍্যক্তির দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহ উদ্ধারের ঘটনার পরে সেখানে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। দেহ উদ্ধার করে পুলিশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। মৃতের পরিবারের সঙ্গে পুলিশ যোগাযোগ করেছে।

স্থানীয়দের দাবি, মৃত ব‍্যক্তির নাম কৃষ্ণকান্ত দাস। তিনি কী করতেন তা এখনও স্পষ্ট নয়। কীভাবে সেখানে এলেন তা-ও এখনও জানা যায়নি। নাবালিকার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় কোনও ভাবে জড়িত কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এলাকার সিসি ক‍্যামেরার ফুটেজ পুলিশ বিশ্লেষণ করে দেখছেন।

বারুইপুরের নাবালিকাকে খুনের অভিযোগে ইতিমধ্যেই মামলা রুজু করা হয়েছে। রবিবার রাতেই দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছে। এর পরেই গণধর্ষণের অভিযোগে ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার ৭০ (২) নম্বর ধারা যুক্ত করা হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতেরা হল— প্রভাস মন্ডল, দিবাকর সর্দার এবং আনন্দ সর্দার।

জানা গিয়েছে, প্রভাস মন্ডল এবং দিবাকর সর্দারকে বারুইপুর আদালতে পেশ করা হয়েছে। অভিযুক্তদের পক্ষে কোনও আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেনি। সরকার পক্ষের আইনজীবীর দাবি, ঘটনাটি তদন্ত স্পর্শকাতর। এই ঘটনায় অভিযুক্তদের জামিন দিলে তথ‍্যপ্রমাণ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। বৈজ্ঞানিক নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট এখনও আসেনি। তাই ধৃতদের ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজত দেওয়া হোক। আদালত পুলিশের আর্জি মঞ্জুর করেছে।

ইতিমধ্যেই, নাবালিকার দেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ফোনে কথা বলেছেন। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, “নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা বিচার চেয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে চার জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিন জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের সঙ্গে পলাতক দুই আসামির সঙ্গে কথপোকথন পুলিশ পেয়েছে। আইজির নেতৃত্বে পুলিশ এবং এসটিএফ কাজ করছেন। ওর পরিবার সরকারের কাছে যা দাবি করেছে, তা সরকার করছে। পরিবার যে ভাবে সরকার এবং পুলিশের কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন তা দেওয়া হবে। তদন্ত চলছে। তাই মাঝপথে বেশি কিছু বলা উচিৎ হবে না।”


Share