Abhishek Banerjee

মাটি খুঁড়ে উদ্ধার সেবাশ্রয়ের লোগোযুক্ত বিপুল ওষুধ, তবে কি এবার সেবাশ্রয় প্রকল্পেও দুর্নীতি! উঠছে প্রশ্ন

বিজেপির তরফে দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে আনা বহু ওষুধ আত্মসাৎ করা হয়েছিল। সেই বিষয়টি গোপন করতেই ওষুধগুলি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।

ডায়মন্ড হারবারে মাটির তলায় বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ডায়মন্ড হারবার
  • শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ০৩:৪০

ডায়মন্ড হারবার জায়গাটি রাজনৈতিক জগতে বেশ জনপ্রিয়। এই অঞ্চলের সাংসদ হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ডায়মন্ড হারবার অঞ্চলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবারের হিঞ্চাবেড়িয়া এলাকায় মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধ উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ওষুধের প্যাকেটে সেবাশ্রয় প্রকল্পের লোগো মিলেছে। ফলত ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। স্থানীয় সূত্রে দাবি, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে। কেন এত ওষুধ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল, তা নিয়েই ইতিমধ্যে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

জানা গিয়েছে, বুধবার সরিষা এলাকার হিঞ্চাবেড়িয়ায় একটি জায়গায় জেসিবি মেশিন দিয়ে মাটি খোঁড়ার কাজ হচ্ছিল। সেই সময় মাটির নিচ থেকে বিপুল পরিমাণ ওষুধের সন্ধান মেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছোয়। 

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, সেবাশ্রয় শিবিরের নামে আনা বহু ওষুধ আত্মসাৎ করা হয়েছিল। সেই বিষয়টি গোপন করতেই ওষুধগুলি মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়। বিজেপির অভিযোগের তির মগরাহাট পশ্চিমের বিধায়ক শামীম আহমেদের দিকেও গিয়েছে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলি মেয়াদোত্তীর্ণ ছিল। তাই দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন বলেই তাঁরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরই উদ্যোগে ডায়মন্ড হারবারের সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রে সেবাশ্রয় শিবির চালু হয়েছিল। এই শিবিরের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং ওষুধ পেতেন। পরবর্তীকালে এই পরিষেবা ডায়মন্ড হারবারের বাইরেও বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারিত হয়। সেই সেবাশ্রয় প্রকল্পের বিরুদ্ধেই ওষুধ দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ফলত ঘটনাটি রাজনৈতিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির প্রকৃতি, মেয়াদ এবং সংরক্ষণের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া ওষুধগুলির মেয়াদ এখনও রয়েছে। নাকি সেগুলি মেয়াদোত্তীর্ণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি কী কারণে ওষুধগুলি মাটির নিচে রাখা হয়েছিল। সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের রিপোর্টের উপরই নির্ভর করবে ঘটনার প্রকৃত কারণ।


Share