Accident

আবাসের টাকা সময় মত মেলেনি, থাকা হলো না পাকা ঘরে, মাটির ঘরে চাপা পড়ে মৃত্যু হল বাবা ও মেয়ের

গৌড় মালিক পেশায় সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ওই মাটির ঘরেই বসবাস করতেন। মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে তাঁর নামে আবাস যোজনার একটি পাকা বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল। সেই বাড়ির নির্মাণকাজও শুরু হয়েছিল।

মাটির ঘর চাপা পড়ে মৃত্যু বাবা ও মেয়ের।
নিজস্ব সংবাদদাতা, হুগলি
  • শেষ আপডেট: ৩১ জুলাই ২০২৬ ১২:৩০

হুগলির মগরা থানার গজঘন্টা মালিকপাড়ায় ঘর ভেঙে পড়ে প্রাণ গেল বাবা ও মেয়ের। মৃতদের নাম গৌড় মালিক (৫৬), মাম মালিক (১২)। ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত প্রায় ২টো নাগাদ আচমকা বিকট শব্দ শুনে ঘর থেকে প্রতিবেশীরা বেরিয়ে আসেন। বাইরে এসে তাঁরা দেখেন, গৌড় মালিকের মাটির বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে। খবর পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন। মগরা থানায় খবর দেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে বাবা ও মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

জানা গিয়েছে, গৌড় মালিক পেশায় সবজি ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি তাঁর কিশোরী মেয়েকে নিয়ে ওই মাটির ঘরেই বসবাস করতেন। মগরা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে তাঁর নামে আবাস যোজনার একটি পাকা বাড়ি বরাদ্দ হয়েছিল। সেই বাড়ির নির্মাণকাজও শুরু হয়েছিল। ইটের দেওয়ালও তোলা হয়েছিল। তবে সম্পূর্ণ বরাদ্দের টাকা না পাওয়ায় কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। বাধ্য হয়েই পরিবারকে পুরনো মাটির ঘরেই থাকতে হচ্ছিল।

স্থানীয় এক বাসিন্দার দাবি, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে মাটির ঘরের ভিত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সেই কারণেই গভীর রাতে হঠাৎ করে বাড়িটি ভেঙে পড়ে। এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, আগের সরকারের আমলে বাড়ির বরাদ্দ হলেও সম্পূর্ণ অর্থ সময়মতো মেলেনি। প্রায় ছয় মাস আগে একটি কিস্তির টাকা দেওয়া হয়েছিল। সেই অর্থে যতটা সম্ভব নির্মাণকাজ করা হলেও বাড়ি সম্পূর্ণ করা যায়নি। শেষ পর্যন্ত যে পাকা ঘরে ওঠার স্বপ্ন ছিল, তা আর পূরণ হল না। মাটির ঘরই কেড়ে নিল বাবা ও মেয়ের প্রাণ।

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে মগরা থানার পুলিশ।


Share