Mid-Day Meal

স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে ভাসছে পাখির মৃতদেহ, সেই জলেই রান্না মিড-ডে মিল! আতঙ্কে খাবার বন্ধ পড়ুয়াদের

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পড়ুয়াদের অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা স্কুল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। জলের ট্যাঙ্কে মরা পাখি পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রী কাকুলি কবিরাজ মণ্ডল।

জলের ট্যাঙ্কে ভাসছে পাখির মরদেহ
নিজস্ব সংবাদদাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা
  • শেষ আপডেট: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:৫০

দক্ষিণ ২৪ পরগনার স্কুলের জলের ট্যাঙ্কে উদ্ধার পাখির মৃতদেহ। আর সেই জলেই হচ্ছে মিড-ডে-মিল রান্না! ক্যানিং সার্কেলের গলাডহরা কুসুমমনি এফপি স্কুলে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ওই ট্যাঙ্কের জলেই স্কুলের মিড ডে মিল রান্না করা হচ্ছিল। এমনকী, পড়ুয়ারাও সেই জল পান করত বলে অভিভাবকেরা দাবি করেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেশ কিছু দিন ধরেই স্কুলের জল থেকে দুর্গন্ধ বেরোচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। ফলে ট্যাঙ্কটি পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের উপরে থাকা জলের ট্যাঙ্কে কোনও ঢাকনা নেই। ট্যাঙ্কের ভিতরে উঁকি দিতেই নজরে আসে জলে ভাসছে একটি মরা পাখি। দীর্ঘদিন জলে পড়ে থাকার কারণে পাখিটির দেহ পচে গিয়ে পোকাও ধরে গিয়েছিল বলে অভিযোগ।

ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পড়ুয়াদের অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। স্কুল চত্বরে তাঁরা বিক্ষোভ দেখান। তাঁদের অভিযোগ, দিনের পর দিন ট্যাঙ্কটি ঢাকনাহীন অবস্থায় পড়ে ছিল। তবুও কেন বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এল না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। শিশুদের পানীয় জল এবং মিড ডে মিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এতটা গাফিলতি কীভাবে হল, তা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অভিভাবকরা।

এক অভিভাবকের দাবি, ট্যাঙ্কে পাখিটি এক-দু’দিন ধরে পড়ে ছিল না। দীর্ঘদিন জলের মধ্যে থাকার ফলেই সেটি পচে গিয়ে পোকা ধরে যায়। ওই ট্যাঙ্কের জল পড়ুয়ারা পান করার পাশাপাশি মিড ডে মিল রান্নার কাজেও ব্যবহার করত বলে অভিযোগ।

অভিভাবকদের আরও দাবি, স্কুলে মোট তিনজন শিক্ষক রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন প্যারা টিচার। প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতার কারণে স্কুলে আসেন না বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর স্ত্রী কাকুলি কবিরাজ মণ্ডল, যিনি ওই স্কুলের প্যারা টিচার, তিনিই মূলত স্কুলের বিভিন্ন বিষয় দেখভাল করেন বলে অভিযোগ অভিভাবকদের।

এদিকে, জলের ট্যাঙ্কে মরা পাখি পড়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন প্রধান শিক্ষক গোবিন্দ মণ্ডল এবং তাঁর স্ত্রী কাকুলি কবিরাজ মণ্ডল। তবে কীভাবে এতদিন ধরে বিষয়টি কারও নজরে এল না এবং ওই জল ব্যবহার করে রান্না করা খাবার পড়ুয়াদের পরিবেশন করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

ঘটনার পর আতঙ্কে স্কুলের মিড ডে মিল খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে পড়ুয়াদের একাংশ। শিশুদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দ্রুত পরিষ্কার পানীয় জলের ব্যবস্থা এবং গোটা ঘটনার তদন্তের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


Share