Death

ব্যারেজের গেট খুলতেই বাড়ল জলের স্রোত, তলিয়ে গেল দুই পড়ুয়া! ৪৮ ঘণ্টার তল্লাশির পর মহানন্দা থেকে উদ্ধার নিথর দেহ

প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালানোর পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের অদূরেই দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করলেন।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৩৮

রবিবার ছুটির দিনে শিলিগুড়ির অদূরে ফুলবাড়ির মহানন্দা ব্যারেজে স্নান করতে নেমে দুই স্কুল ছাত্র তলিয়ে গিয়েছিল। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে উদ্ধারকারীরা তল্লাশি চালানোর পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের অদূরেই দুই কিশোরের নিথর দেহ উদ্ধার করলেন। এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো এলাকায়।

স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার দুপুরে স্থানীয় একটি নামী বেসরকারি ইংরেজিমাধ্যম স্কুলের দশম শ্রেণির তিন ছাত্র মহানন্দা ব্যারেজ সংলগ্ন এলাকায় স্নান করতে নামে। প্রথম দিকে নদীতে জলপ্রবাহ তুলনামূলক কম থাকলেও আচমকাই ব্যারেজের গেট খুলে জল ছাড়া হয়। ফলে মুহূর্তের মধ্যে বেড়ে যায় জলস্তর। তীব্র হয়ে ওঠে স্রোতও। জলের স্রোতের তোড়ে তিন ছাত্রই ভেসে যেতে শুরু করে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তাঁদের তৎপরতায় এক ছাত্রকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে বাকি দুই ছাত্র স্রোতের টানে গভীর জলে তলিয়ে যায়। এর পর থেকেই উদ্ধারকারীরা নিখোঁজ দুই কিশোরের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেন। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় নদীতে জোরদার তল্লাশি চালানো হয়। প্রায় দু’দিন ধরে চলা সেই তল্লাশির পর মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলের কাছেই দুই ছাত্রের দেহের সন্ধান মেলে। পরে সেগুলি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।

নিখোঁজ দুই ছাত্রের মধ্যে একজন মালদহের বাসিন্দা প্রজ্ঞাজ্যোতি দাস। অপর জন বাংলাদেশের নাগরিক মহম্মদ সাফায়েল হোসেন নৌসাদ। দু’জনেই ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবাসিক হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করত। ঘটনার পরপরই পুলিশ প্রশাসন, সিভিল ডিফেন্স এবং রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর কর্মীরা যৌথ ভাবে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে সোমবার সকাল থেকে এনডিআরএফ-এর প্রশিক্ষিত ডুবুরি দল তল্লাশি অভিযানে নামানো হয়। স্পিডবোটও উদ্ধারকাজে ব্যবহার করা হয়।

তবে ঠিক নদীর কোন অংশে দুই ছাত্র তলিয়ে গিয়েছিল, তা নিশ্চিত ভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব না হওয়ায় উদ্ধারকারীরা সমস্যায় পড়েন। তার উপর মহানন্দার প্রবল স্রোতের কারণে তল্লাশি চালাতেও তাঁদের একাধিক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। নদীর বিভিন্ন অংশে তল্লাশি চালিয়েও প্রথম দিকে নিখোঁজ দুই ছাত্রের কোনও সন্ধান মেলেনি। এ দিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শোকার্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং পরিস্থিতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে সোমবার ঘটনাস্থলে যান ফাঁসিদেওয়ার বিডিও বনানী মজুমদার। তিনি পড়ুয়াদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন। তাঁদের সবরকম প্রশাসনিক সহযোগিতার আশ্বাসও দেন। খবর পেয়েই মালদহ থেকে প্রজ্ঞাজ্যোতির পরিবারের সদস্যেরা ফুলবাড়িতে পৌঁছে যান। প্রিয়জনের সন্ধানে উৎকণ্ঠায় তাঁরা অপেক্ষা করতে থাকেন উদ্ধার অভিযানের ফলাফলের জন্য।

অবশেষে মঙ্গলবার সকালে এনডিআরএফ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দলের নিরলস যৌথ অভিযানে নিখোঁজ হওয়া স্থান থেকে মোটামুটি ২০০ মিটার দূরত্বে মহানন্দা নদী থেকেই দুটি দেহ উদ্ধার করা হয়। খবর পেয়ে ফাঁসিদেওয়া থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য দেহ দুটিকে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


Share