Arrest

দুর্গাপুজোকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে উস্কানির ছক! ভুয়ো পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ দিনাজপুরে গ্রেফতার ৩, বিদেশি যোগের সন্দেহ পুলিশের

ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পিছনে বিদেশি, এমনকী বাংলাদেশি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত।
অরুণিমা কর্মকার, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৭

দুর্গাপুজোকে ঘিরে সমাজমাধ্যমে ভুয়ো ও উস্কানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে অশান্তি তৈরির চেষ্টার অভিযোগে দক্ষিণ দিনাজপুরে গ্রেফতার হলেন তিন যুবক। ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উত্তেজনা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার পিছনে বিদেশি, এমনকী বাংলাদেশি যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম রেহান আলি ও সুমন রায়। তাঁরা কুমারগঞ্জের বাসিন্দা। অন্য ধৃত সিদ্দিক আলি মিয়ার বাড়ি গঙ্গারামপুরে। অভিযোগ, একটি চক্রের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তাঁরা সমাজমাধ্যমে ভুয়ো ও বিভ্রান্তিকর পোস্ট ছড়াচ্ছিলেন। দুর্গাপুজোর সময়ে এই ধরনের পোস্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

সম্প্রতি কুমারগঞ্জে সমাজমাধ্যমে এই ধরনের পোস্ট পুলিশের নজরে আসে। এরপরই ঘটনার তদন্তে নামে কুমারগঞ্জ থানার পুলিশ। তদন্তের সূত্র ধরে ওই তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের সমাজমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও অনলাইন কার্যকলাপ খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক লেনদেনও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযুক্তদের অ্যাকাউন্টে অস্বাভাবিকভাবে টাকা ঢোকার তথ্য সামনে এসেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কোথা থেকে ওই টাকা এসেছে এবং কারা তা পাঠিয়েছে, তা জানার চেষ্টা চলছে।

মঙ্গলবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করেন পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত। তিনি জানান, সমাজমাধ্যমে উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। এই ঘটনার পিছনে বিদেশি যোগ থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ। তবে সেই যোগের প্রকৃত স্বরূপ জানতে তদন্ত চলছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। তাঁদের ১৪ দিনের পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, আর্থিক লেনদেনের পিছনে কারা রয়েছে এবং বিদেশের কোনও ব্যক্তি বা সংগঠনের সঙ্গে অভিযুক্তদের যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের ডিজিটাল কার্যকলাপ ও আর্থিক লেনদেনের একাধিক দিক খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।


Share