Murder Case

ডিমের ঝোল-ভাত নিয়ে বচসা, বাবা-মাকে খুনের অভিযোগ ছেলের বিরুদ্ধে, ২৪ ঘণ্টায় রহস্যের কিনারা

কোচবিহারের দিনহাটায় সুকুমার বর্মন ও চম্পা রায়ের জোড়া খুনের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার মহাদেব রায়। পুলিশের দাবি, জেরায় খুনের কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, দিনহাটা
  • শেষ আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৫

ডিমের ঝোল-ভাত নষ্ট হয়ে যাওয়া নিয়ে রাতের বচসা। সেই বিবাদই শেষ পর্যন্ত গড়াল ভয়াবহ পরিণতিতে। বাবা ও মাকে ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করে খুনের অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে গেলেও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের হাতে ধরা পড়ল অভিযুক্ত। কোচবিহারের দিনহাটায় জোড়া খুনের ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে মহাদেব রায়কে।

শুক্রবার সকালে দিনহাটা ভিলেজ-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের হিমঘর সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়ি থেকে সুকুমার বর্মন ও চম্পা রায়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। প্রাথমিক ভাবে খুনের ঘটনা বলেই মনে করা হয়েছিল। এরপর তদন্তে নেমে ওই দম্পতির ছেলে মহাদেবের উপর সন্দেহ তৈরি হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সুকুমার পেশায় ভ্যানচালক ছিলেন। চম্পা ছিলেন গৃহবধূ। তাঁদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। দুই মেয়েরই অন্যত্র বিয়ে হয়ে গিয়েছে। ছেলে মহাদেব অবশ্য বাবা-মায়ের সঙ্গেই থাকতেন।

পুলিশের জেরায় মহাদেব খুনের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁর দাবি, বৃহস্পতিবার রাতে খেতে বসে দেখা যায় ডিমের ঝোল-ভাত নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই খাবার খেতে তিনি রাজি হননি। তা নিয়ে সুকুমারের সঙ্গে তাঁর কথা কাটাকাটি শুরু হয়। অভিযোগ, বচসার সময় সুকুমার তাঁকে মারধর করেন। এরপরই ভারী একটি জিনিস দিয়ে সুকুমারের মাথায় আঘাত করা হয়।

ছেলেকে আটকাতে এগিয়ে এসেছিলেন চম্পা। অভিযোগ, তাঁকেও একই ভাবে আঘাত করেন মহাদেব। গুরুতর আঘাতের জেরে ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। খুনের পর বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন মহাদেব।

শনিবার অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে ঘটনার পুনর্নির্মাণও করা হয়। পাশাপাশি খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

তবে তদন্তে আরও একটি বিষয় সামনে এসেছে। সুকুমার বর্মন মহাদেবের জৈবিক বাবা নন বলে জানা গিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মহাদেবের মা চম্পার সঙ্গে একসঙ্গে থাকতেন সুকুমার। তবে তাঁদের আইনিভাবে বিয়ে হয়েছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। মহাদেবের দেওয়া এই বক্তব্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ। খুনের নেপথ্যে শুধুই খাবার নিয়ে বিবাদ, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।


Share