weather Disaster

এক ঘণ্টার প্রবল বৃষ্টিতে জলমগ্ন শিলিগুড়ি, ফুলেফেঁপে তিস্তা-মহানন্দা, ধসের জেরে বারবার বন্ধ সিকিমগামী এনএইচ-১০, বিপর্যস্ত পাহাড়ের যোগাযোগ

পাশাপাশি ধস ও দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে দুর্যোগ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬ ০২:৫৯

ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শিলিগুড়ি ও পাহাড়। বৃহস্পতিবার সকালে টানা প্রায় এক ঘণ্টার প্রবল বর্ষণে শিলিগুড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির জেরে তিস্তা ও মহানন্দা নদীর জলস্তরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি ধস ও দুর্যোগের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ, যার ফলে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

আবহাওয়া দফতর বৃহস্পতিবার বৃষ্টির পূর্বাভাস দিলেও ভারী বৃষ্টির কোনও সতর্কতা জারি করেনি। তবে সকালেই আচমকা প্রবল বর্ষণে শিলিগুড়ির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। মাত্র এক ঘণ্টায় শহরে প্রায় ৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর জেরে হায়দারপাড়া ও চম্পাসারি-সহ মহানন্দা নদীর দুই পাড়ের ১, ৪ এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডে জল জমে যায়। যদিও দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, ধীরে ধীরে জল নেমে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।

ভারী বৃষ্টি হয়েছে পাহাড়েও। কার্শিয়াংয়ে বৃষ্টি হয়েছে ১১০ মিলিমিটার। কালিম্পংয়ে ৫৭ মিলিমিটার। স্থানীয় সূত্রে খবর, প্রবল বৃষ্টিতে রুদ্ররূপ নিয়েছে পাগলাঝোরা। তা মাথায় রেখে ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে শান্তই ছিল পাগলাঝোরা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকালের বৃষ্টির পরে তার চেহারা দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয়েরা।

সিকিমের বরদাং এলাকায় ১০ নম্বর জাতীয় সড়কে ফের ধস নেমেছে। ধস সরানোর কাজ শুরু করেছে প্রশাসন। ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় সোমবার সকালে সিকিমগামী এই জাতীয় সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। পরে জলস্তর কিছুটা কমলে দুপুরে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। তবে বিকেলে সেবকের করোনেশন সেতুর কাছে নতুন করে ধস নামায় আবারও এনএইচ-১০ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় প্রশাসন।

এর আগের রবিবার রাতভর পাহাড়ে প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এতে বিকল্প রাস্তাগুলিতে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তিস্তা বাজার থেকে দার্জিলিংমুখী পেশক রোডও জলের তলায় চলে যায়। গেইলখোলায় কোরা ঝোরার প্রবল স্রোতে জাতীয় সড়কের একাংশ বিপন্ন হয়ে পড়ে। এ ছাড়া কালিম্পং শহরের রকভিল স্কুলের কাছে ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয় দুটি বাড়ি। যদিও এই ঘটনায় কোনও প্রাণহানির খবর নেই, শহরের মধ্যেই ধস নামায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।


Share