Shoot Out

শিলিগুড়িতে স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি, লুট ২০০ গ্রাম সোনা ও ২ লক্ষ টাকা! ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডবে আতঙ্ক

আক্রান্ত ব্যবসায়ী উত্তম সরকারের দাবি, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনা এবং দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা নগদ ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন সশস্ত্র অপরাধের ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৭

শিলিগুড়িতে ফের প্রকাশ্যে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে দুঃসাহসিক ছিনতাইয়ের ঘটনায় ছড়াল তীব্র আতঙ্ক। এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ঘিরে ধরে মারধর করে বন্দুকের ভয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। শুধু ছিনতাই করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, পালানোর সময় ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলিও চালায় বলে অভিযোগ। বুধবার রাতে শিলিগুড়ির শান্তিনগর পঞ্চানন রোড এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আক্রান্ত ব্যবসায়ী উত্তম সরকারের দাবি, ছিনতাই হওয়া ব্যাগে প্রায় ২০০ গ্রাম সোনা এবং দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা নগদ ছিল। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এমন সশস্ত্র অপরাধের ঘটনায় পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে উত্তম সরকার জানান, বুধবার রাতে শান্তিনগর বউবাজারে নিজের সোনার গয়নার দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। বাড়িতে ঢোকার মুখেই আচমকা তাঁর পথ আটকায় একদল দুষ্কৃতী। তাঁকে ধাক্কাধাক্কি করে ড্রেনের মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে তাঁর কাছে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয় হামলাকারীরা। ব্যাগে বিপুল পরিমাণ সোনা ও নগদ টাকা ছিল বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী। ছিনতাই করে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যেতেই স্কুটি নিয়ে তাদের পিছু ধাওয়া করেন উত্তম। কিন্তু বাইপাসের কাছে পৌঁছোতেই তাঁকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। কোনওক্রমে প্রাণে বাঁচেন তিনি। হামলাকারীরা বাংলায় কথা বলছিল এবং কারও মুখে মাস্ক বা মাথায় হেলমেট ছিল না বলেও দাবি করেছেন আক্রান্ত ব্যবসায়ী।

ঘটনার সময় পাশের দোকানের ইলেকট্রিক ব্যবসায়ী বিদ্যুৎ মণ্ডল উত্তমকে বাঁচাতে এগিয়ে এসেছিলেন। তাঁর কথায়, দোকানের ভিতরে কাজ করার সময় আচমকাই গলির মধ্যে তীব্র শব্দ শুনতে পান। বাইরে বেরিয়ে দেখেন, দু'জন বাইকে এবং তিনজন একটি স্কুটিতে রয়েছে। দুষ্কৃতীদের আটকানোর চেষ্টা করতেই তাদের মধ্যে একজন বন্দুক উঁচিয়ে তাঁকে ‘এই, সরে যা’ বলে হুমকি দেয়। প্রাণের ভয়ে পিছিয়ে আসতে বাধ্য হন তিনি। এরপর দ্রুত বাইপাসের দিকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা। বিদ্যুৎবাবুর দাবি, এই ধরনের সশস্ত্র অপরাধে এলাকার বাসিন্দা, বিশেষ করে মহিলারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রিয়া মণ্ডলের অনুমান, বাজার থেকেই উত্তমকে অনুসরণ করছিল দুষ্কৃতীরা। গলির ভিতরে ঢোকার পর তাদের মধ্যে দু'জন বাইরে পাহারা দিচ্ছিল, বাকিরা ভিতরে ঢুকে ছিনতাই করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় দোকানদারদের তরফে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলেও আগ্নেয়াস্ত্রের ভয়ে পিছিয়ে আসতে হয়। হামলাকারীরা এলাকার বাসিন্দা নয়, বাইরে থেকে এসেছিল বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। শান্তিনগর বউবাজার, রাহুড়বাড়ি মোড় এবং পাইপলাইন বুড়াবুড়ি মোড় সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি উঠেছে।

ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ডিসিপি রানা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শহরজুড়ে নাকা তল্লাশি শুরু হয়েছে। শিলিগুড়িতে ঢোকা ও বেরনোর বিভিন্ন পথে নাকা বসানো হয়েছে। পাশাপাশি, অভিযুক্তদের খোঁজে একটি বিশেষ পুলিশি দলও কাজে নেমেছে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় আশিঘর ফাঁড়ির পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। এটি পূর্বপরিকল্পিত ছিনতাই কি না, তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রকাশ্যে বন্দুক দেখিয়ে ছিনতাই এবং গুলি চালানোর ঘটনায় শিলিগুড়ির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।


Share