Rape and Murder

দু'দিন পর রায়গঞ্জের কুলিকের জঙ্গলে উদ্ধার ১৩ বছরের নাবালিকার বিবস্ত্র দেহ, ধর্ষণ করে খুনের সন্দেহ, তদন্তে পুলিশ

দু’দিন পর রায়গঞ্জের কুলিকের জঙ্গল থেকে উদ্ধার হল তার বিবস্ত্র দেহ। ধর্ষণ করে খুনের সন্দেহ পুলিশের। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র
নিজস্ব সংবাদদাতা, রায়গঞ্জ
  • শেষ আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০২৬ ০১:২৭

মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল ১৩ বছরের কিশোরী। তারপর থেকেই সে নিখোঁজ হয়ে যায়। দু’দিন কোনও খোঁজ মেলেনি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রায়গঞ্জের কুলিকের জঙ্গল থেকে তার বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হলো। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, ধর্ষণের পর খুন করে দেহ ফেলে রাখা হয়ে থাকতে পারে। যদিও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তকারীরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। ইতিমধ্যেই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে পুলিশে তদন্ত শুরু করেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সে উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জের বাসিন্দা। মঙ্গলবার সাইকেল নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। মৃতার বাবার বক্তব্য, একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্মীর বাড়ি থেকে জামা আনতে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়েছিল মেয়ে। কিন্তু তারপর আর বাড়ি ফেরেনি। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও মেয়ের খোঁজ না মেলায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর শেষ পর্যন্ত তাঁর থানায় নিখোঁজের অভিযোগ জানান।

এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুলিকের জঙ্গলের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা পচা গন্ধ পান। গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে এক কিশোরীর দেহ তাঁদের নজরে আসে। তৎক্ষণাৎ পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ এসে দেহ উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজে পাঠায়। বৃহস্পতিবার গভীর রাতেই সেখানে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়।

ঘটনার তদন্তে পুলিশ একাধিক দিক খতিয়ে দেখছে। কুলিকের জঙ্গল এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার বাড়ি থেকে বেরনোর পর কিশোরী কোথায় গিয়েছিল, কারও সঙ্গে দেখা হয়েছিল কি না, তদন্তকারীরা তা জানার চেষ্টা করছেন। ধর্ষণ ও খুনের আশঙ্কা করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে না আসা পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে পুলিশ নিশ্চিত হতে চাইছে না।

অন্যদিকে, এই ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্য ও পরিজনরা। দ্রুত তদন্ত শেষ করে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দিয়েছেন।


Share