Human Trafficking

ইসলামপুরে পুলিশের অভিযানে উদ্ধার নাবালিকা-সহ ৪৮ জন! আন্তঃরাজ্য মানবপাচার চক্রের অভিযোগ, ইডি তদন্তের দাবি বিজেপি নেত্রীর

কিছু দিন আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার রুখতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার প্রসঙ্গে ইসলামপুরের পুলিশ সুপার রাকেশ সিংহ জানান, “মানবপাচারের বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, ইসলামপুর
  • শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ০১:১৫

উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে পুলিশের অভিযানে ৪৮ জন নাবালিকা এবং মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা চম্পাবাগ এলাকার যৌনপল্লিতে ধারাবাহিক অভিযানে ৪৮ জন মহিলা এবং নাবালিকাকে উদ্ধার করেছে। পুলিশ মনে করছেন, নেপথ্যে সংগঠিত আন্তঃরাজ্য মানবপাচার চক্র রয়েছে। এরা মূলত অসহায় ও নাবালিকাদের টার্গেট করে। ঘটনায় ইডি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। 

পুলিশ সূত্রের খবর, দু’টি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের খবরের ভিত্তিতে গত ৩ জুলাই এই অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই দিন চম্পাবাগের একটি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে ১৭ জন নাবালিকাকে পুলিশ উদ্ধার করে। তাঁদের মধ্যে ১৩ জন বিহারের, তিনজন পশ্চিমবঙ্গের এবং একজন অসমের বাসিন্দা বলে জানা গিয়েছে। উদ্ধার হওয়া সবচেয়ে কমবয়সি শিশুটির বয়স মাত্র ১১ বছর বলে জানিয়েছে পুলিশ। অভিযানের সময় অভিযুক্তদের ধরতে ড্রোনের সাহায্যে নজরদারিও চালানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজন মানবপাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। যদিও কয়েক জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে গত ৫ জুলাই ফের অভিযান চালায় পুলিশ। একই এলাকা থেকে আরও ২২ জন নাবালিকা ও দুই প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। এরপর রবিবার গভীর রাতে আবার অভিযান চালিয়ে আরও সাত জনকে পুলিশ উদ্ধার করে। যাঁদের মধ্যে চারজন নাবালিকা। সব মিলিয়ে এক সপ্তাহে মোট ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

উদ্ধার হওয়া নাবালিকা এবং মহিলাদের চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি (সিউব্লিউসি)-র সামনে হাজির করানো হয়েছে। এর পরে তাঁদের বিভিন্ন সুরক্ষা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। সূত্রের খবর, উদ্ধার হওয়া কিশোরীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের প্রতিদিন আট থেকে দশজন পর্যন্ত গ্রাহকের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা হতো। এই কাজের জন্য তাঁরা কোনও অর্থ পেত না। জোরপূর্বক তাঁদের যৌন শোষণের শিকার হতে হয়েছে।

তদন্তকারীরা মনে করছেন, পাচারকারীরা মূলত বিহারের দরভাঙ্গা, বেগুসরাই, আরা, পটনা, মুজফ্ফরপুর, সীতামঢ়ি ও কিশানগঞ্জের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালকে টার্গেট করত। শারীরিক বলপ্রয়োগের পরিবর্তে অসহায়, ক্ষুধার্তদের প্রলোভন দেখিয়ে পশ্চিমবঙ্গে নিয়ে আসা হতো। গ্রেফতার চার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানবপাচার, পকসো আইন এবং ভারতীয় ন‍্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।

কিছু দিন আগে সীমান্তবর্তী এলাকায় মানবপাচার রুখতে পুলিশকে কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই ঘটনার প্রসঙ্গে ইসলামপুরের পুলিশ সুপার রাকেশ সিংহ জানান, “মানবপাচারের বিরুদ্ধে এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

এই খবর সামনে আসতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনের যান বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরী। তিনি গোটা ঘটনার তদন্তভার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার, এনআইএর হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি, যৌনপল্লিতে মানবপাচারে বিপুল আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখতে ইডি তদন্তেরও দাবি করেন।

বিজেপি নেত্রী শ্রীরূপা মিত্র চৌধুরীর অভিযোগ, এই মানবপাচার চক্রের সঙ্গে এলাকার কিছু রাজনৈতিক নেতা এবং ব্যবসায়ীর যোগ থাকতে পারে। উদ্ধার হওয়া বহু কিশোরীকে বিহার থেকে আনা হয়েছে। কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার এ ধরনের অপরাধ বরদাস্ত করবে না। এখানেও বুলডোজার চলবে।”


Share