Anti Corruption Branch

ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দেওয়ার নাম করে ঘুষ, গ্রেফতার উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের কর্মী, দুর্নীতি হয়েছে বলে দাবি সুপারের

পুলিশের ফাঁদে পা দিয়ে ফেনলপথ‍্যালিন মেশানো টাকা হাতে নেয় ওই কর্মী। কাচের বাটিতে হাত ডোবাতেই জলের রঙ গোলাপি হয়। টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হতেই ওই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতার শিলিগুড়ি মেডিকেলের এক কর্মী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৫৮

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের নাম করে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেলের এক কর্মীকে গ্রেফতার করল দুর্নীতি দমন শাখা। এর আগে সরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের টাকার বিনিময়ে রক্ত বিক্রি করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে যে দুর্নীতি হয়েছে তা মেনে নিয়েছেন সুপার। তাঁর বক্তব্য, এই অভিযান যেন বন্ধ না হয়।

বৃহস্পতিবার সকালে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের ফরেন্সিক বিভাগের এক কর্মীকে গ্রেফতার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা। পুলিশের ফাঁদে পা দিয়ে ফেনলপথ‍্যালিন মেশানো টাকা হাতে নেয় ওই কর্মী। কাচের বাটিতে হাত ডোবাতেই জলের রঙ গোলাপি হয়। টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হতেই ওই কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেলে টাকার ময়নাতদন্তের জন্য বা রিপোর্ট পাইয়ে দেওয়ার জন‍্য টাকা নেওয়ার অভিযোগ নতুন নয়। শুধু উত্তরবঙ্গ নয়, রাজ্যের যে হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় সেখানেই এই অভিযোগ বিভিন্ন সময়ে উঠেছে আসে। সংঘটিত চক্র ছাড়া যে এই সিন্ডিকেট চালানো যায় না তা মেনে নিয়েছেন চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত প্রশাসকেরা। তবে এত দিন পর্যন্ত সবটাই ছিল মৌখিকভাবে। এ বার নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েই দুর্নীতি দমন শাখার অভিযানে ওই কর্মী গ্রেফতার হয়েছেন।

কয়েক দিন আগে সমাজমাধ‍্যমে একটি ভিডিয়ো ছড়িয়ে পড়েছিল। তাতে দেখা যায়, দুর্ঘটনার মৃতের দেহ সংরক্ষণের জন‍্য টাকা চাওয়া হচ্ছে। তা দেখার পরে কলেজ কর্তৃপক্ষ নড়েচড়ে বসে। হাসপাতালের সুপার কৌশিক ঈশের তদন্তের আশ্বাস দেন। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন শাখা অভিযান চালায়।

দুর্নীতি দমন শাখা সূত্রের খবর, এক ব্যক্তির কাছ থেকে ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য তিন হাজার টাকা চাওয়া হয়। এর পরেই ওই ব‍্যক্তি এসিবির হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করে জানান। এর পরেই এসিবি ওই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তাঁদের হাতে টাকা দিয়ে ওই কর্মীকে দিতে বলা হয়। সেই ফাঁদে পা দিয়েই ওই কর্মী গ্রেফতার হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতারির পাশাপাশি ফরেন্সিক বিভাগের কিছু কর্মী এবং আধিকারিকদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এই সিন্ডিকেটে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

হাসপাতালে সুপার কৌশিক বলেন, ‘‘যে আধিকারিকেরা এই অভিযান চালিয়েছেন, তাঁদের সাধুবাদ জানাই। আমি চাই, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে এমন অভিযান চলতে থাকুক। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর কয়েক জনকে নানা অভিযোগে শো-কজ করেছি। কিন্তু কোনওবার সন্তোষজনক জবাব পাইনি।’’ সুপার এ-ও জানান, মেডিক্যাল কলেজের ব্লাড ব্যাঙ্ক-সহ নানা জায়গায় দুর্নীতির চক্র রয়েছে। সেগুলি জলদি ভাঙা দরকার।


Share