Landslide

২০০ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ, বালাসনের জলে ভেসে গেল সেতু, ধসে বন্ধ দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সড়ক

নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং কালিম্পং ও সিকিমমুখী রাস্তাগুলিতে এখনও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

বৃষ্টিতে ধসে পড়েছে ব্রিজ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ১১:২৪

রাতভর অতি ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি এলাকা। কোথাও নদীর জলে ভেসে গিয়েছে সেতু, কোথাও আবার ধসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জাতীয় সড়ক। ফলে শিলিগুড়ি-দার্জিলিং এবং শিলিগুড়ি-মিরিকের মধ্যে সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার ভোর পর্যন্ত পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বর্ষণের জেরে উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীর জলস্তর বেড়েছে। বালাসন নদীর প্রবল স্রোতে কার্শিয়াং জেলার দুধিয়ায় নির্মিত অস্থায়ী বিকল্প সেতুটি ভেসে গিয়েছে। অন্যদিকে, ভারী বৃষ্টির ফলে মহানন্দা নদীর জল বৃদ্ধি পাওয়ায় ১১০ নম্বর জাতীয় সড়কের একাধিক অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গায় ধস নেমেছে। নিরাপত্তার স্বার্থে আপাতত দার্জিলিং-শিলিগুড়ি সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক এবং কালিম্পং ও সিকিমমুখী রাস্তাগুলিতে এখনও যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

খারসাং থেকে শিলিগুড়িগামী তিন লেনের রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে পড়েছে। পাশাপাশি একটি বিশাল গাছ প্রধান সড়কের উপর উপড়ে পড়ায় যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ধস সরানো এবং রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুটা সময় লাগবে।

১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়েই দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের টয়ট্রেন চলাচল করে। রাস্তার ক্ষতির জেরে আপাতত টয়ট্রেন পরিষেবা স্থগিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ের ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, শুক্রবারের সমস্ত পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে। তবে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে শনিবার থেকে দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে টয়ট্রেন পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার থেকেই বালাসন নদীর জলস্তর দ্রুত বাড়ছিল। রাতের দিকে মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মধ্যরাতে প্রবল স্রোতের চাপে হিম পাইপের উপর নির্মিত অস্থায়ী সেতুটি সম্পূর্ণভাবে জলের তলায় চলে যায়। এর ফলে মিরিক, দুধিয়া এবং শিলিগুড়ির মধ্যে যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল দুধিয়ার মূল সেতু। এরপর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দ্রুত অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে খরস্রোতা বালাসন নদীতে সেই সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ছিল। বর্ষার শুরুতেই তা জলের তোড়ে ভেসে যাওয়ায় স্থানীয়দের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

দুর্যোগ পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী তথা শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ জানিয়েছেন, পরিস্থিতির কথা মুখ্যমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে এবং জেলার প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। তিনি পর্যটকদের অযথা যাতায়াত না করে নিরাপদ স্থানে থাকার এবং প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলার আবেদন জানিয়েছেন।

এ দিকে ভুটান ও সিকিমের পাহাড়ি এলাকায় এখনও ঘন মেঘের আনাগোনা থাকায় নতুন করে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আবহাওয়ার এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আমোছু-সহ ভুটানের বিভিন্ন নদীতে জলস্তর আরও বাড়তে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে ডুয়ার্সের নদীগুলিতেও। ফলে সমতল এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না প্রশাসনের কর্তারা।


Share