Drug Smuggling

ভোর রাত পর্যন্ত উদ্ধার কোটি টাকা, ন’হাজার বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত, মালদহে গ্রেফতার তিন যুবক, আদালতে হাজির করাবে পুলিশ

পিন্টু সরকারের ফ্ল্যাট থেকে ওষুধের দু’কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০ গ্রাম সোনা, সাতটি মোবাইল ফোন এবং একটি টাকা গোনার মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ন’হাজার বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

মালদহে উদ্ধার বিপুল পরিমাণ টাকা।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২৬ ০৭:২৩

মালদহে উদ্ধার মাদক পাচার থেকে অর্জিত বিপুল নগদ টাকা। সোমবার ভোররাত পর্যন্ত দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানার পুলিশ, স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ (এসওজি)-কে সঙ্গে নিয়ে মালদহের মঙ্গলবাড়ী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালায়। ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করানো হবে। সাত দিনের পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

টাকা উদ্ধারের ঘটনায় দক্ষিণ দিনাজপুরের পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্ত সাংবাদিক বৈঠক করেন। তিনি জানিয়েছেন, গত জুলাই মাসে হরিরামপুর থানার পুলিশ একটি গাড়ি আটক করে। তা থেকে এক হাজার ৫০০ বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়। ঘটনায় মৃদুল ঘোষ-সহ পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়। মৃদুলের বাড়ি গঙ্গারামপুর এলাকাতেই। তাঁকে জেরা করে আরেক অভিযুক্তের খোঁজ মেলে। রবিবার দুপুরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকেও গ্রেফতার করে।

ওই অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই মালদহের মঙ্গলবাড়ী এলাকার একটি ফ্ল্যাটে পুলিশ অভিযুক্তকে সঙ্গে নিয়ে পৌঁছোয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আলমারির ভিতরে বিপুল টাকার হদিশ মেলে। টাকার পরিমাণ এতটাই বেশি যে তা গণনা করতে মেশিন আনতে হয়। রাত থেকে ম‍্যাজিস্ট্রেটকে সঙ্গে নিয়ে টাকা গণনার কাজ আরাম্ভ হয়। সোমবার ভোর ৫টে পর্যন্ত সেই গণনার কাজ চলে।

পুলিশ জানিয়েছে, পিন্টু সরকার নামে এক যুবক ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। পিন্টুর ওষুধের দোকান রয়েছে। তার ঘর থেকে দু’কোটি ৪০ লক্ষ ৯৭ হাজার ৩৮০ টাকা উদ্ধার হয়েছে। এর পাশাপাশি ২০ গ্রাম সোনা, সাতটি মোবাইল ফোন এবং একটি টাকা গোনার মেশিন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ন’হাজার বোতল কাশির সিরাপ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, কাশির সিরাপগুলি কোডেইন মিশ্রিত ‘Eskuf সিরাপ’। এই সিরাপটি ল‍্যাবোরেট ফার্মেসিকিউটিক‍্যাল ইন্ডিয়া লিমিটেড তৈরি করে। মূলত হরিয়ানা থেকে আনা হয়েছিল। কোন পথে কীভাবে আনা হয়েছিল তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে।

টাকা উদ্ধারের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম— পিন্টু সরকার, গোপাল চাকি এবং সুশান্ত হাজরা। পুলিশের বক্তব্য, মৃদুল, গোপাল আর পিন্টু বাংলাদেশে এই কাশির সিরাপ পাচার করার জন্য মজুত করেছিল। এরা সবাই নিজেদের নেটওয়ার্ক তৈরি করে কাজ করে। এর পিছনে অনেকেই জড়িত রয়েছে। এ রকম আরও গুদামের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলিও খতিয়ে দেখা হবে।

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহকে মাদক পাচারের ট্রানজিট রুট হিসেবে পাচারকারীরা ব‍্যবহার করে। ব্রাউন সুগার, সোনা, গাঁজা এবং কাশির সিরাপ পাচারের জন‍্য ব‍্যবহৃত হয়। সেখান থেকেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা অর্জন করা হয়েছে বলে মনে করছেন পুলিশ কর্তারা। সেই টাকা কীভাবে অর্জন হয়েছে তার সম্ভাব্য পদ্ধতি জানতেই অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজনীয় বলে পুলিশ মনে করছে।


Share