Drug Mafia Arrested

মণিপুর থেকে কলকাতা বিমানবন্দর, সেখান থেকে রাজ‍্যে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক তৈরির কাঁচামাল, ইম্ফল থেকে গ্রেফতার মাদক মাফিয়া নওয়াজ শরিফ

মালদহ জেলা পুলিশের সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, “এটা আমাদের অনেক বড় সাফল্য। আমরা মনে করি, যেখানে ব্রাউন সুগার তৈরির হয়, সেখানে আঘাত করতে পারলে মালদহ-সহ রাজ্যের এর চক্রকে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের সমস্ত আধিকারিকেরা অত‍্যন্ত নিপুন ভাবে এই কাজ করেছেন। ইম্ফলের পুলিশ আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।”

ধৃত মাদক মাফিয়ার নাম নওয়াজ শরিফ।
প্রশান্তকুমার দাস, ইংরেজবাজার
  • শেষ আপডেট: ০৩ মার্চ ২০২৬ ০৯:৪২

অবশেষে মাদকপাচার চক্রের মূল পাণ্ডাকে গ্রেফতার করল মালদহ জেলা পুলিশ। ধৃত মাদক মাফিয়ার নাম নওয়াজ শরিফ। পুলিশ জানিয়েছে, কলকাতা এবং গোয়ার বিভিন্ন জায়গায় থেকে একাধিক মাদক পাচারকারীদের গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করেই মণিপুর পুলিশের সাহায্য নিয়ে মাদকপাচার চক্রের মূল পাণ্ডাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে রবিবার আদালতে হাজির করানো হয়েছে।

গত ২৫ জানুয়ারি সোহেল শেখ ওরফে ডালিম-সহ দু’জনকে কালিয়াচক থানার পুলিশ গ্রেফতার করে। পরে কালিয়াচক থানায় একটি মাদক মামলা রুজু করা হয়। সেই মামলার তদন্তে নেমে গোয়ায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে ইসমাইল শেখ-সহ চার জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গোয়া থেকে ধৃত ইসমাইল শেখ এবং কলকাতা ধৃত সোহেল শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নওয়াজ শরিফের খোঁজ মেলে। পুলিশ জানিয়েছে, ইসমাইল এবং সোহেলের ফোনের কল রেকর্ড এবং ব‍্যাঙ্কের নথি খতিয়ে দেখে নওয়াজের সরাসরি যোগ পাওয়া গিয়েছে। পুলিশ জানতে পরে, নওয়াজ শরিফ আদতে মণিপুরে পূর্ব ইম্ফল জেলার কিয়ামগেই মুসলিম আওয়াং এলাকায় বাসিন্দা। এর পরেই কালিয়াচকের এসডিপিও, গাজোলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডিএসপি (অপরাধ)-সহ একাধিক পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে বিশেষ দল গঠন করে মালদহের পুলিশ। তার পরে পূর্ব ইম্ফল জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। সেখানে তাঁদের সাহায্য নিয়ে অভিযান চালায়। নওয়াজ শরিফকে নিজের বাড়ি থেকে করে ট্রানজিট রিমান্ডে মালদহে নিয়ে আসা হয়। রবিবার তাঁকে আদালতে হাজির করানো হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, সেনাপতি, চুরাচাঁদপুর, উখরুল এবং কাংপোকপি-এই চার জেলায় ওপিয়ামের চাষ হয়। সেখান থেকে ওপিয়ামের নির্যাস লিয়ঙডাও-এ আনা হয়। সেখান থেকেই তা সংগ্রহ করে কলকাতা বিমানবন্দরে আনা হয়। তার পরেই তা রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। এই ওপিয়ামের নির্যাস দিয়ে ব্রাউন সুগার তৈরি হয়। নওয়াজই এই কাঁচামাল এদেরকে সরবরাহ করত। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে ইসমাইল, সেহেলরা তা সংগ্রহ করত। এ ছাড়াও, বর্মা থেকেও পাহাড়ি পথে ওপিয়ামের নির্যাস আনা হয় বলেও জানতে পেরেছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, গোটা কর্মকান্ড ইসমাইল শেখ এবং নওয়াজ শরিফ সেখান থেকে বসেই কাঁচামাল সঠিক ঠিকানায় অর্থাৎ ব্রাউন সুগার প্রস্তুতকারীদের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে কি না তা পরিচালনা করত। টাকার লেনদেনে হচ্ছে কি না তা-ও তারাই দেখত। এই চক্রের সঙ্গে নওয়াজ শরিফের কিছু আত্মীয় জড়িত রয়েছে বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, মালদহের কালিয়াচকে ওপিয়ামের চাষ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাই ব্রাউন সুগার প্রস্তুত করতে মণিপুর, বর্মা এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু জায়গায় থেকে এ রাজ্যে নিয়ে আনা হচ্ছে। তবে সে বিষয়ে আরও তদন্তের প্রয়োজন তা-ও জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

রবিবার সাংবাদিক এই সংক্রান্ত একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন মালদহ জেলা পুলিশের সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছেন, “এটা আমাদের অনেক বড় সাফল্য। আমরা মনে করি, যেখানে ব্রাউন সুগার তৈরির হয়, সেখানে আঘাত করতে পারলে মালদহ-সহ রাজ্যের এর চক্রকে রুখে দেওয়া সম্ভব হবে। আমাদের সমস্ত আধিকারিকেরা অত‍্যন্ত নিপুন ভাবে এই কাজ করেছেন। ইম্ফলের পুলিশ আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছে।”


Share