Child Marriage

দক্ষিণ দিনাজপুরে অন্তঃসত্ত্বাদের ২৬ শতাংশই নাবালিকা! বাল্যবিবাহ রোধে অচল চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি, নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন

বাল্যবিবাহ রোধে শনিবার বালুরঘাটে আয়োজিত সচেতনতা শিবিরে প্রশাসনের প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে এমনই উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন থানায় গড়ে প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০টি ‘আর্লি প্রেগন্যান্সি’ সংক্রান্ত পকসো মামলা দায়ের হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:১০

দক্ষিণ দিনাজপুরে অন্তঃসত্ত্বাদের ২৬ শতাংশই নাবালিকা। অর্থাৎ জেলার প্রতি চার জন অন্তঃসত্ত্বার মধ্যে এক জনেরও বেশি অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাল্যবিবাহ রোধে শনিবার বালুরঘাটে আয়োজিত সচেতনতা শিবিরে প্রশাসনের প্রকাশ করা পরিসংখ্যানে এমনই উদ্বেগজনক ছবি উঠে এসেছে। একই সঙ্গে জেলার বিভিন্ন থানায় গড়ে প্রতি মাসে ১৮ থেকে ২০টি ‘আর্লি প্রেগন্যান্সি’ সংক্রান্ত পকসো মামলা দায়ের হওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে।

প্রশাসনিক পরিসংখ্যানের পাশাপাশি বেসরকারি হিসাবেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ওই হিসাবে, দক্ষিণ দিনাজপুরে বছরে প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটে। তার জেরে প্রায় দেড় হাজার ‘আর্লি প্রেগন্যান্সি’র ঘটনা ঘটে বলে দাবি। বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য আসা অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদেরও মাঝেমধ্যে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এমনকি নাবালিকাদের পালিয়ে গিয়ে বিয়ে এবং পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনাও নিয়মিত সামনে আসছে। ফলে বাল্যবিবাহের সঙ্গে অল্প বয়সে মাতৃত্বের সরাসরি যোগও স্পষ্ট হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহ রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কথা যে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির, সেই কমিটির কার্যক্রমই প্রায় এক বছর ধরে কার্যত বন্ধ। ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে পূর্বতন কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে বালুরঘাট শহর সংলগ্ন হোসেনপুরের ‘শুভায়ন হোম’-এর চত্বরে থাকা চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির কার্যালয় তালাবন্ধ। আগে সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি নতুন কেসের পাশাপাশি প্রায় সমসংখ্যক পুরনো মামলার শুনানি হত। বর্তমানে সেই কার্যালয় ফাঁকা পড়ে রয়েছে।

জানা গিয়েছে, এখন মালদা হয়ে শিলিগুড়ির চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির মাধ্যমে নামমাত্র ভার্চুয়ালি কাজ চলছে। ফলে উদ্ধার হওয়া নাবালিকা, বাল্যবিবাহ এবং পকসো সংক্রান্ত মামলায় জেলা স্তরে নজরদারি ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জেলা পুলিশের এক পদস্থ আধিকারিকের কথায়, উদ্ধার হওয়া অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের দ্রুত চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটিতে হাজির করাতে হয়। জেলার নিজস্ব কমিটি না থাকায় তদন্ত এবং আইনি সুরক্ষার প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হচ্ছে।

অন্য দিকে, বাল্যবিবাহ রোধে প্রশাসনের তরফে সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হলেও জেলার গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি কাঠামো কেন এখনও অচল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শুধু সচেতনতা নয়, বাল্যবিবাহ রুখতে মাঠস্তরে নজরদারি এবং উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার জেলা প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন ‘বালুছায়া’ সভাকক্ষে ওই সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। উপস্থিত ছিলেন বালুরঘাটের বিধায়ক বিদ্যুৎকুমার রায়, একাধিক অতিরিক্ত জেলাশাসক এবং বালুরঘাটের মহকুমাশাসক দীপান্বিতা পাত্র। অনুষ্ঠানের ডিজিটাল স্ক্রিনে জেলার অন্তঃসত্ত্বা নাবালিকাদের এই পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।

প্রশাসনের তরফে চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটি দ্রুত চালুর আশ্বাস দেওয়া হলেও, প্রায় এক বছর ধরে কমিটির কার্যক্রম বন্ধ থাকার মধ্যে বাল্যবিবাহ ও আর্লি প্রেগন্যান্সি রোধে জেলার নজরদারি ব্যবস্থা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।


Share