Suvendu Adhikari

‘পাহাড়ে বেড়াতে নয়, কাজ করতে আসব’, কার্শিয়াং থেকে উন্নয়নের রোডম্যাপ দিলেন শুভেন্দু অধিকারী

তিনি জানান, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা বাগানগুলির উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং সাংসদ রাজু বিস্তারা।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কার্শিয়াং
  • শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ০৯:৩৯

পাহাড় সফরে গিয়ে উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কার্শিয়াংয়ের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পাহাড়ে তিনি পর্যটক হিসেবে নয়, কাজের উদ্দেশ্যেই আসবেন। পাহাড়বাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর সরকার বদ্ধপরিকর বলেও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।

সভামঞ্চ থেকে পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের সার্বিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে শুভেন্দু বলেন, কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির সুবিধা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি জানান, পাহাড় দেশের গর্ব, বাংলার সম্মান। ডাবল ইঞ্জিন সরকার পাহাড়ের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাহাড়ের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করাই তাঁদের লক্ষ্য।

এ দিন জিটিএ-র ভূমিকা নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জিটিএ শিক্ষক নিয়োগে যে দুর্নীতি করেছে, আমাদের সরকার সে ভাবে শিক্ষক নিয়োগ করবে না। পরীক্ষার মাধ্যমে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ হবে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলে নিয়োগ হবে। কালিম্পংয়ে মেডিকেল কলেজ, কার্শিয়াংয়ে হাসপাতালের আপগ্রেডেশন সব আমাদের প্ল্যানিংয়ে আছে। ধীরে ধীরে আমরা করব।’

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘তোলাবাজি, সিন্ডিকেটরাজ, কাটমানির দিন শেষ। আগের সরকারের আক্রোশ ছিল। যখন পাহাড় নিয়ে কেউ বলতেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বার বার বলতেন পাহাড়ে তিনি ভোট পান না। তিনি কিছু করতেনও না। তিনি পাহাড়ে ঘুরতে আসতেন। বার বার পাহাড়ে পর্যটক হয়ে এসেছেন। তবে আপনাদের ভাই শুভেন্দু পাহাড়ে বেড়াতে আসবে না। কাজ করতে আসবে। যা বলব চিন্তাভাবনা করে বলব। আর যা বলব সেই কাজই আমি করব, আমার সরকার করবে।’

চা শিল্পের উন্নয়ন নিয়েও আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের চা বাগানগুলির উন্নয়নে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সভায় উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বিশাল লামা, অর্থ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন এবং সাংসদ রাজু বিস্তারা।

জনসভা শেষে কার্শিয়াংয়ের জনকল্যাণ শিবির পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই শিবিরের মাধ্যমে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প ও নাগরিক পরিষেবার সুবিধা সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ১৫ জুন শুরু হওয়া তিন দিনের এই কর্মসূচির মঙ্গলবার ছিল দ্বিতীয় দিন।


Share