Arrest

৯১ পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা গায়েব! মালদহে প্রধান শিক্ষক-সহ দু'জনকে গ্রেফতার করল সিআইডি

অভিযোগ ছিল, পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল। এই ঘটনায় মালদহের একাধিক স্কুলের নামও উঠে আসে।,

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ২২ আগস্ট ২০২৬ ০১:৫০

ট্যাব কেলেঙ্কারি মামলায় মালদহে দুই স্কুলকর্মীকে গ্রেফতার করল সিআইডি। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন হবিবপুরের কেন্দপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দুলাল মণ্ডল এবং করণিক রাজেশ চৌধুরী। তাঁদের মালদহ জেলা আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পাঁচ দিনের সিআইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে রাজ্যজুড়ে ট্যাব কেলেঙ্কারির অভিযোগ সামনে আসে। অভিযোগ ছিল, পড়ুয়াদের ট্যাব কেনার জন্য বরাদ্দ টাকা তাঁদের অ্যাকাউন্টে না গিয়ে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল। এই ঘটনায় মালদহের একাধিক স্কুলের নামও উঠে আসে। বৈষ্ণবনগর থেকে হরিশ্চন্দ্রপুর ও হবিবপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। তদন্তের সময় মালদহ এবং উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থেকে বেশ কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। সরকার পরিবর্তনের পর সিআইডি এই মামলার তদন্তে ফের তৎপর হয়। সেই তদন্তেই কেন্দপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও করণিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তদন্তকারীদের দাবি, ওই স্কুলের ৯১ জন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। তৎকালীন জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক বাণীব্রত সাহা প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষকও স্কুলের করণিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তবে দীর্ঘদিন তদন্তের অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ।

মালদহ জেলা আদালতের সরকারি আইনজীবী দেবজ্যোতি পাল জানিয়েছেন, স্কুলের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করেই ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে। টাকা ট্রান্সফারের সময় প্রধান শিক্ষকের ফোনে ওটিপি যেত। সেই ওটিপি তিনি কাকে দিয়েছিলেন এবং এই ঘটনায় আরও কারা জড়িত, তা জানতে সিআইডি দুই অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে।

অন্য দিকে, এই গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। দক্ষিণ মালদহ জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক নীলাঞ্জন দাসের অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে দুর্নীতি ও লুটপাট চলেছে। তাঁর দাবি, ট্যাবের টাকা তৎকালীন সরকারের মদতে আত্মসাৎ করা হয়েছিল। তবে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।


Share