Child Injured

চাঁচলের সরকারি হাসপাতালে স‍্যালাইন খুলছিল সাফাইকর্মী! কাটল শিশুর আঙুল, থানায় অভিযোগ দায়ের, রিপোর্ট তলব করল স্বাস্থ্য ভবন

মালদহের চাঁচলের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, গত ২৬ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি আড়াই বছরের শিশু কন‍্যাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পরে শিশুটিকে স‍্যালাইন দেওয়ার নির্দেশ দেন।

চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ৩০ জুন ২০২৬ ০৭:৩৪

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নার্স নয়, শিশুর হাত থেকে স‍্যালাইনের খুলতে গিয়েছিল সাফাইকর্মী। তাতেই বিপত্তি ঘটে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ না থাকায় স‍্যালাইনের চ‍্যানেল খুলতে গিয়ে শিশুর হাতের আঙুল কেটে বাদ চলে গিয়েছে। ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পরিবার অভিযোগ দায়ের করেছে। 

মালদহের চাঁচলের সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ঘটনাটি ঘটেছে। জানা গিয়েছে, গত ২৬ জুন শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটি আড়াই বছরের শিশু কন‍্যাকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকেরা শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করার পরে শিশুটিকে স‍্যালাইন দেওয়ার নির্দেশ দেন। চাঁচলের ওই হাসপাতালের শিশুরোগ বিভাগে ভর্তি ছিল সে। সেই মতো শিশুটির স‍্যালাইন চলছিল। বাঁ হাতে স‍্যালাইনের চ‍্যানেল বসানো ছিল। মঙ্গলবার সকালে শিশুটি সুস্থ হলে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিবারের অভিযোগ, এ দিন সকালে শিশুটিকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার জন‍্য যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু হয়। বাঁ হাতে থাকা ওই চ‍্যানেল খুলতে এসেছিলেন উজ্জ্বলকুমার সাহা নামে এক সাফাইকর্মী। উপযুক্ত প্রশিক্ষণের অভাবে কাঁচি ব‍্যবহার করে স‍্যালাইনের চ‍্যানেল খুলতে গিয়ে হয় বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল কেটে যায় বলে দাবি করেছে পরিবার। 

পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত উজ্জ্বলকুমার সাহা ওই ওয়ার্ডের সাফাইকর্মী বলে। তাঁর উপযুক্ত প্রশিক্ষণ নেই। পরিবারের আরও অভিযোগ, যে সময় ওই সাফাইকর্মী এসে শিশুটির হাতের চ‍্যানেল খুলছিল, সেই ওয়ার্ডের ভিতরে চেয়ারে বসেছিলেন নার্স। ঘটনার পরে শিশুটি রক্তাক্ত হয়। সেই সময় কর্তব্যরত নার্সকে বলতে গেলে তিনি পরিবারের সদস্যদের ধমক দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পরে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়ায়। চাঁচল হাসপাতাল সুপারের কাছে পরিবার অভিযুক্ত সাফাইকর্মী এবং নার্সদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ লিখিত ভাবে জমা দিয়েছেন। পাশাপাশি, চাঁচল থানাতেও দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

চাঁচল হাসপাতালের সুপার সুমিত তালুকার গিয়ে শিশুটিকে দেখেছেন। ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি মেনে নিয়েছেন, এটা নার্সের কাজ। হাতের চ‍্যানেল খোলার সময় তাঁর থাকা উচিৎ ছিল। কিন্তু সেই সময় কেন ছিলেন না তা-ই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিস্তারিত ভাবে জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিককে জানানো হয়েছে। ঘটনায় জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ী বলেন, “স্বাস্থ্য দফতর থেকে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্ট পাঠানোর কাজ চলছে। তদন্ত শুরু হয়েছে।” এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকেই সাসপেন্ড (নিলম্বিত) করা হয়নি বলে জানিয়েছেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক।


Share