Arrest

সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি টাকার তোলাবাজি! ঠিকাদারকে প্রাণনাশের হুমকি, পুলিশের জালে 'ডাকু', বাবুন

গত ১৮ মে বালুরঘাটের সাহেবকাছারি এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকাদার সৌম্যব্রত দে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উঠে আসে একটি প্রভাবশালী ‘কাটমানি চক্র’-এর অভিযোগ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, বালুরঘাট
  • শেষ আপডেট: ২২ মে ২০২৬ ০১:০৬

সরকারি কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে কোটি টাকার কাটমানি, ঠিকাদারদের প্রাণনাশের হুমকি, তোলাবাজি ও দাপটের রাজত্ব অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূল নেতা কৌশিক মাহাত ওরফে ‘ডাকু’। বৃহস্পতিবার কলকাতার একটি গোপন ডেরায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে বালুরঘাট থানার পুলিশ। একই সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে দিবাকর রায় ওরফে বাবুন, মাসুদ রহমান-সহ আরও তিনজনকে। ঘটনায় জোর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার রাজনৈতিক মহলে। শুক্রবার ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলা হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ মে বালুরঘাটের সাহেবকাছারি এলাকার বাসিন্দা ও ঠিকাদার সৌম্যব্রত দে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে উঠে আসে একটি প্রভাবশালী ‘কাটমানি চক্র’-এর অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, এগ্রো ইন্ডিয়া, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর এবং জেলা পরিষদের রাস্তা ও নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ পাইয়ে দেওয়ার নামে ঠিকাদারদের উপর চাপ সৃষ্টি করা হত। কাজ করতে গেলে দিতে হত মোটা অঙ্কের কমিশন। অভিযোগ, সেই কাটমানির হার কখনও ১৫ শতাংশ, আবার কখনও ২০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছে যেত।

অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকার করলেই শুরু হত ভয় দেখানো, কাজ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি, এমনকি প্রাণনাশের আশঙ্কাও। সৌম্যব্রত দে জানিয়েছেন, কুমারগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির একটি রাস্তা সংস্কারের কাজের জন্য তাঁর কাছে পাঁচ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় লাগাতার হুমকি ও মানসিক চাপের মুখে পড়েন তিনি। এরপরই পুলিশের দ্বারস্থ হন।

এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে বালুরঘাট থানার বিশেষ দল। দীর্ঘ নজরদারির পর কলকাতায় অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর থেকেই অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তড়িঘড়ি জেলা কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকও ডাকা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

যদিও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। তাঁর কথায়, কাটমানির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

অন্যদিকে বিজেপি নেতা জয়ন্ত প্রামানিক কটাক্ষ করে বলেন, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তোলাবাজির সাম্রাজ্য চালানো হয়েছে। হিলি থেকে বালুরঘাট গোটা জেলায় কাটমানির আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এ দিনের গ্রেফতারিতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি পেয়েছেন বলেও দাবি তাঁর।


Share