West Bengal Tourism

পর্যটকদের জন‍্য প্রতিটি জেলায় খোলা হবে হেল্পলাইন নম্বর, দফতরের টাকা নয়ছয় করার অভিযোগ মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের

সোমবার জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠকে পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, পর্যটন পরিকাঠামোর উন্নয়নে সিএসআর তহবিল ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক কমিটি ও হেল্পলাইন চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকদের পরিষেবা ও সমস্যার দ্রুত সমাধান করা যায়।

পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।
নিজস্ব সংবাদদাতা, দার্জিলিং
  • শেষ আপডেট: ২৪ আগস্ট ২০২৬ ১০:১৭

পালাবদলের পরে রাজ্যের পর্যটনকেন্দ্রগুলিকে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য সরকার। সেইসঙ্গে রাজ‍্যে প্রতিটি জেলায় একটি করে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র তৈরি করার পরিকল্পনাও করেছে রাজ্য সরকার। সোমবার সমস্ত জেলাশাসকদের সঙ্গে বৈঠক করেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, এই দফতরে ধুলো পরিষ্কার করতেই সময় চলে যাচ্ছে। পূর্বতন সরকারের এই দফতরের টাকা খরচই করেনি।

সোমবার বিকেলে সমস্ত জেলাশাসকদের নিয়ে বৈঠক করেন রাজ্যের পর্যটন দফতরের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, সরকারের ১০৬ দিন পূর্ণ হয়ে। পূর্বতন সরকার এই দফতরের জন‍্য বরাদ্দ কোনও টাকাই খরচ করেনি। বরং দুর্নীতি হয়েছে। দফতরে ধুলো জমা হয়ে রয়েছে। তা-ই পরিস্কার করার কাজ করছি। মন্ত্রীর অভিযোগ, পর্যটকদের জন্য বিভিন্ন সময় লজ তৈরি করা হয়েছিল। লজগুলির সংস্কার নামে সরকারের কোষাগারের টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। এমন জায়গায় হোম-স্টে তৈরি করা হয়েছে যেটা একবার ব‍্যবহার করার মতো। একবার সেখানে পর্যটকেরা সেখানে গেলে আর সেখানে যাবেন না। এ সব তৈরি করে তৃণমূলের নেতাদের পকেটে টাকা চলে গিয়েছে।

এ দিন বিকেলে পর্যটন মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ জানান, এক হাজার ‘টুরিস্ট অ‍্যামেনিটি সেন্টার’ তৈরি করা হবে। এমনও ওনেক হোম-স্টে রয়েছে যাতে শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। নেই চা খাওয়ার জায়গা।  পর্যটকদের পরিষেবা দেওয়ার জন‍্য নূন্যতম ব্যবস্থা নেই। এই টুরিস্ট অ‍্যামেনিটি সেন্টারগুলি তৈরি হলে পর্যটকদের সুবিধা হবে। তবে এত বিপুল পরিমাণ টুরিস্ট অ‍্যামেনিটি সেন্টার তৈরি করতে তহবিলের প্রয়োজন রয়েছে। কীভাবে টাকা আসবে তা-ও নিয়ে অবগত করেন রাজ‍্যের মন্ত্রী। এ বিষয়ে শঙ্কর জানান, রাজ‍্য সরকারের কোষাগারের ওপরে চাপ না দিয়ে সিএসআর তহবিলের মাধ্যমে তা তৈরি করা হবে।

এ দিনের বৈঠকে জেলাভিত্তিক ত্রিস্তরীয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানান শঙ্কর ঘোষ। জেলা, মহকুমা এবং ব্লক ভিত্তিক এই কমিটি পর্যটন সংক্রান্ত কাজ করবেন। পাশাপাশি জেলাভিত্তিক হেল্পলাইন নম্বর চালু করার কথাও তিনি জানিয়েছেন। পর্যটকেরা সমস্যার কথা এই নম্বরে ফোন করে জানাতে পারবেন। তাঁদের সমস্যার সমাধানও করতে হবে। জেলাশাসকদের প্রতিটি জেলায় একটি করে পর্যটনস্থল চিহ্নিত করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। কীভাবে সেই সমস্ত কেন্দ্রের উন্নয়ন করা যাবে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ পরিকল্পনা তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের প্রকল্প থেকে টাকার করা হতে পারে।

মন্ত্রী মনে করেন, এটা শুধু যে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দায়িত্ব তা নয়। এটা সরকারি আমলা এবং কর্মীদেরও দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। পর্যটন দফতরে সঙ্গে সমস্ত জেলাকে যুক্ত করতে হবে। জেলার পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত শেয়ার হোল্ডারদের সঙ্গে জেলাশাসককে নিয়মিত বৈঠক করতেও নির্দেশ দিয়েছেন শঙ্কর ঘোষ। তিনি এ-ও মনে করেন, রাজ‍্যে পর্যটন বাড়লে রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। সেইসঙ্গে কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পাবে।


Share