DPSC

ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের ঘরে তালা, থমকে প্রশাসনিক কাজ! পদত্যাগ না করায় প্রশ্নের মুখে বাসন্তী বর্মন

জানা গিয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

ডিপিএসসির চেয়্যারম্যান বাসন্তী বর্মন
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ০৯:২৫

রাজ্য সরকারের নির্দেশ জারি হওয়ার পরও মালদহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের (ডিপিএসসি) চেয়ারম্যান পদ থেকে এখনও পদত্যাগ করেননি বাসন্তী বর্মন। এই ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষক-শিক্ষিকা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘদিন ধরে চেয়ার ছাড়তে অনীহার জেরে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে। জমে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল, ব্যাহত হচ্ছে প্রশাসনিক কাজকর্ম।

জানা গিয়েছে, সরকার পরিবর্তনের পর রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পদাধিকারীদের পদত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের শিক্ষা দফতর থেকেও জেলা শিক্ষা দপ্তরগুলিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার বার্তা পাঠানো হয়। অভিযোগ, সেই নির্দেশ মানেননি মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারপার্সন বাসন্তী বর্মন।

বর্তমানে ডিপিএসসি চেয়ারম্যানের ঘর তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ফলে অফিসের স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে অফিসে এলেও কাজ না হওয়ায় ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি দপ্তরের তরফে ফোন করা হলেও চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না বলেও দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক স্কুল পরিদর্শক মলয় মণ্ডল। তিনি জানান, ১১ তারিখে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে নির্দেশ আসে, সরকারি দায়িত্বে থাকা পদাধিকারীদের পদত্যাগ করতে হবে। সেই নির্দেশ শিক্ষা দফতরের মাধ্যমে জেলাতেও পৌঁছোয়। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ডিপিএসসি চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেননি। তিনি কোনওরকম সহযোগিতাও করছেন না। ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।

তিনি আরও জানান, গত ৪ তারিখ থেকে এই অচলাবস্থা চলছে। প্রচুর ফাইল জমে রয়েছে। মালদা জেলায় ১৯৯২টি স্কুল এবং প্রায় ন'হাজার ৮৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন। তাঁদের বহু প্রশাসনিক কাজ আটকে রয়েছে।

ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও। দক্ষিণ মালদহ বিজেপির সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “আমরা কাউকে জোর করে চেয়ার থেকে নামাব না। যাঁরা আগের সরকারের আমলে দায়িত্বে ছিলেন, তাঁদের উচিত নিজে থেকেই সরে দাঁড়ানো। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে, সেই বার্তা বুঝতে হবে।”

অন্যদিকে মালদহ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র শুভময় বসুর বক্তব্য, “নতুন সরকার নিজেদের নীতি অনুযায়ী কাজ করছে। সেখানে কেউ যদি এখনও পদ আঁকড়ে বসে থাকেন, সেটা শিষ্টাচারবিরোধী। কেন তিনি এখনও পদত্যাগ করছেন না, সেটাই প্রশ্ন।”

যদিও সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বাসন্তী বর্মনের কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।

ফলে এখন জেলার শিক্ষক-শিক্ষিকা মহলে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে কেন এখনও চেয়ার ছাড়ছেন না ডিপিএসসি চেয়ারম্যান বাসন্তী বর্মন? এর পিছনে অন্য কোনও স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা নিয়েই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।


Share