Cockroach Janata Party

সিজেপি আন্দোলনে শিশুদের উপস্থিতি ঘিরে তুমুল বিতর্ক! অভিজিৎ-সৌরভদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে অভিযোগের দাবি, জিরো এফআইআরের আবেদন

এই ঘটনাকে সামনে রেখেই আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, ১২ বছর বয়সি শিশুদের ওই কর্মসূচিতে নিয়ে আসার দায়িত্ব কার? বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা উচিত বলেও তিনি দাবি জানিয়েছেন।

ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বহু বালক-বালিকাদেরও দেখা গিয়েছিল।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ০৩:৩৩

ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে এ বার নতুন আইনি বিতর্কের সূত্রপাত। কর্মসূচিতে নাবালক-নাবালিকাদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পকসো আইনের আওতায় অভিযোগ দায়েরের দাবি উঠেছে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে বহু বালক-বালিকাকে দেখা গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের উপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলেও অভিযোগ তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টির নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে সামনে রেখেই আইনজীবী রিঙ্কি চট্টোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। তাঁর প্রশ্ন, ১২ বছর বয়সি শিশুদের ওই কর্মসূচিতে নিয়ে আসার দায়িত্ব কার? বিষয়টি খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা উচিত বলেও তিনি দাবি জানিয়েছেন।

সংবাদসংস্থা এএনআই সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই অভিজিৎ-সৌরভদের বিরুদ্ধে রিঙ্কি জিরো এফআইআর দায়ের করার অনুমতি চেয়ে অভিযোগ করেছেন। তাঁর কথায়, “নিটের প্রশ্নফাঁস নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইনস্টাগ্রামে ভিডিয়ো করেছেন, কুমন্তব্যকারীদের ক্ষমা করেছেন। তারপর অভিজিৎ এবং সৌরভ ভিডিও পোস্ট করে দাবি করেন, ১২ বছর বয়সি বাচ্চা মেয়েদের উপর পুলিশ লাঠি চালিয়েছে সেটার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে। আমার প্রশ্ন, ১২ বছর বয়সি বাচ্চাকে প্রতিবাদস্থল পর্যন্ত টেনে আনল কে?”

রিঙ্কি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ১২ বছর বয়সি শিশুদের কোনও রাজনৈতিক বা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যুক্ত করা উচিত নয়, তাদের নিরাপদ পরিবেশেই রাখা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার প্রাসঙ্গিক বিধান এবং শিশু সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনা করে প্রতিবাদে শিশুদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগে আয়োজকদের বিরুদ্ধে পকসো আইনে মামলা দায়ের করা উচিত। এই মর্মে প্রয়োজনীয় অনুমতি চেয়ে তিনি ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। পাশাপাশি, শিলিগুড়ি সাইবার ক্রাইম থানায় গিয়ে তিনি জানান, ‘ককরোচ’দের বিরুদ্ধে একটি জিরো এফআইআর দায়ের করতে চান।

উল্লেখ্য, ককরোচ জনতা পার্টির সংসদ ভবন অভিযানের সময় পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে বলে অভিযোগ। মহিলা আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশি নির্যাতনেরও অভিযোগ ওঠে। মামলাকারীদের আইনজীবীদের দাবি, বহু মহিলা আন্দোলনকারীকে গোপনাঙ্গ লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়েছে। তাঁদের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে দায়িত্বে থাকা বহু পুলিশকর্মীর পোশাকে পরিচয়পত্র বা ব্যাজ ছিল না। এই অভিযোগের সমর্থনে অন্তত ১১০টি ভিডিয়ো প্রমাণ হিসেবে আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনজীবীরা। ঘটনার পর একাধিক দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। শুনানির সময় শীর্ষ আদালত পর্যবেক্ষণে জানায়, শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করার অধিকার সংবিধান স্বীকৃত একটি মৌলিক অধিকার। তাই শুধুমাত্র আন্দোলন হচ্ছে বলেই লাঠিচার্জ করা বা অতিরিক্ত বলপ্রয়োগকে সমর্থন করা যায় না।


Share    

CJP