Rape

আপত্তিকর ছবি দেখিয়ে তরুণীকে ব্ল্যাকমেল, নাবালিকা বোনকেও ধর্ষণের অভিযোগ! কোচবিহারে অভিযুক্ত পলাতক

ঘটনায় নির্যাতিতাদের পরিবারের তরফে কোচবিহার সদর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, কোচবিহার
  • শেষ আপডেট: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:৩৬

এক তরুণী ও তাঁর নাবালিকা বোনকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তের নাম আবুল কালাম আজাদ ওরফে মিঠুন। ঘটনায় নির্যাতিতাদের পরিবারের তরফে কোচবিহার সদর মহিলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। তবে এখনও অধরা অভিযুক্ত। দুই বোনের উপর নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।

পরিবারের অভিযোগ, ২০ বছর বয়সি তরুণীর সঙ্গে প্রথমে সম্পর্ক তৈরি করে অভিযুক্ত। সেই সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে তরুণীর কিছু আপত্তিকর ছবি তুলে নেয় সে। পরে সেই ছবিগুলি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তরুণীকে ব্ল্যাকমেল করা শুরু হয়। অভিযোগ, ছবি ফাঁস করার হুমকি দিয়ে একাধিকবার তরুণীকে ধর্ষণ করে ওই যুবক। শুধু শারীরিক নির্যাতনই নয়, ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে তরুণীর কাছ থেকে টাকা আদায় করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ, গত ২৪ অক্টোবর মাথাভাঙা থেকে তরুণীর নাবালিকা বোনকে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে বাইকে তোলে অভিযুক্ত। এরপর তাকে নির্জন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, নির্যাতনের পর ওই নাবালিকাকে রাস্তায় ফেলে রেখে পালানোর পরিকল্পনা করেছিল যুবক। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে ধরে ফেলেন বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তকে মারধরও করা হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে নাবালিকাকে উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু সেই সময় অভিযুক্ত কীভাবে পালিয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

এরপর বুধবার কোচবিহার সদর মহিলা থানায় গিয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতাদের পরিবারের সদস্যরা। দুই বোনের বাবা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কোচবিহার জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজ চলছে। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের একটি সূত্রের খবর, বুধবারই দুই নির্যাতিতার মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে কোচবিহারের এমজেএন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে।

তদন্তকারীরা তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্তের পরিচয় কীভাবে হয়েছিল, কত দিন ধরে তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল এবং অভিযুক্তের পরিচিতদের সম্পর্কে নির্যাতিতা কোনও তথ্য দিতে পারেন কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন। এসব তথ্যের সূত্র ধরে পলাতক অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়ার আশা করছেন তদন্তকারীরা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়ার পরও কীভাবে অভিযুক্ত পালিয়ে গেল, সেই প্রশ্নও উঠছে।


Share