Suvendu Adhikari

মাত্র ৮ মাসেই ধসে দুধিয়া সেতু! উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ বিপর্যয়, কাটমানি-দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

ঘটনার পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেতু নির্মাণে কোনও ধরনের কাটমানি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬ ০৯:০২

নির্মাণের মাত্র আট মাসের মধ্যেই বর্ষার প্রথম দফার ভারী বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ল দুধিয়া সেতু। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নির্মিত এই সেতু ধসে যাওয়ায় শিলিগুড়ি ও মিরিকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুর নির্মাণমান নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে। ঘটনার পর নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, সেতু নির্মাণে কোনও ধরনের কাটমানি বা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হল দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলে যোগাযোগ স্বাভাবিক করা। অস্থায়ী সেতু মেরামত ও যাতায়াত পুনরুদ্ধারের কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ দিকে, টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে। দার্জিলিং, কালিম্পং, লেবং কার্ট রোড এবং মিরিকের গয়াবাড়ি এলাকায় একাধিক স্থানে ধস নামার খবর মিলেছে। নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সেচ দফতর-সহ সংশ্লিষ্ট সব বিভাগকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিপর্যস্ত এলাকাগুলিতে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি দার্জিলিংয়ের সাংসদ রাজু বিস্টও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনার কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস আরও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে প্রবল বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। শনিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় ‘রেড অ্যালার্ট’ ঘোষণা করা হয়েছে। নদীর জলস্তর বৃদ্ধির ফলে নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কার পাশাপাশি পাহাড়ি এলাকায় নতুন করে ধস নামার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্য দিকে, দক্ষিণবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলাতেও রবিবার পর্যন্ত বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সব মিলিয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সঙ্গে অবকাঠামোগত ব্যর্থতার অভিযোগ ঘিরে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি এখন যথেষ্ট উদ্বেগজনক। সেতু ধসের কারণ অনুসন্ধান, দ্রুত মেরামতি এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পদক্ষেপের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন সাধারণ মানুষ।


Share