BJP Leader Arrested

গভীর রাতে কয়লা ডিপোর গেটে লাথি! মাসে ৫০ হাজার টাকা চাওয়ার অভিযোগ, রাজি না হওয়ায় ম‍্যানেজারকে মারধর, শিলিগুড়িতে গ্রেফতার বিজেপি নেতা

অভিযুক্ত বিজেপি নেতার নাম নিরঞ্জন বিশ্বাস। মারধর এবং তোলাবাজির অভিযোগে তাঁকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শিলিগুড়িতে ঘটনাটি ঘটেছে। আদালত তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে।

বিজেপি নেতা নিরঞ্জন বিশ্বাস।
নিজস্ব সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি
  • শেষ আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:১৫

গভীর রাতে আচমকাই কয়লা ডিপোর গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে কর্মীদের গালিগালাজ, হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। শিলিগুড়ির ঘোষপুকুর-ফাঁসিদেওয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপি নেতা নিরঞ্জন বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এমনকী, ওই বিজেপি নেতা মাসে ৫০ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি। দিতে রাজি না হওয়ায় ম‍্যানেজারকে বেধড়ক মারধর করেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিজেপি নেতা নিরঞ্জন বিশ্বাস ফাঁসিদেওয়ার আমবাড়ি এলাকার 'রয়্যাল হিমালয় কার্বন' নামে একটি বেসরকারি কয়লা ডিপোর যান। অভিযোগ, আচমকা সেখানে পৌঁছে ডিপোর মূল গেটে লাথি মারতে শুরু করেন। জোর করে ভিতরে ঢুকে পড়েন। এর পরে ডিপোর ম‍্যানেজার ও কর্মীদের উদ্দেশে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। সংস্থাটিকে বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও নিরঞ্জন দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিরঞ্জনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সংস্থা যাতে বন্ধ না হয় তার জন্য মাসোয়ারা দিতে হবে দাবি করা শুরু করেন। ডিপোর কর্মীদের বক্তব্য, প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে বলে নিরঞ্জন দাবি করে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কয়লা ডিপোর ম্যানেজার রাজকুমার জয়সওয়ালকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ঘটনায় তিনি জখম হন। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করানো হয়েছে।

সংস্থার তরফে ফাঁসিদেওয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ম‍্যামেজার রাজকুমার। পুলিশের হাতে ডিপোর সিসিটিভি ফুটেজ তুলে দেওয়া হয়। সেই ফুটেজ ইতিমধ্যেই সমাজমাধ‍্যমে ভাইরাল হয়েছে। তা খতিয়ে দেখা বিজেপি নেতা নিরঞ্জন বিশ্বাসকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। রবিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে নিরঞ্জনকে পেশ করা হয়েছে। বিচারক তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে তিন দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।

রাজকুমার বলেন, "মাসে ৫০ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিতে হবে দাবি করা হয়। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় আমাকে মারধর করা হয়েছে।পরে বেশ কয়েকটি শারীরিক পরীক্ষাও করাতে হয়েছে।” রাজকুমারের আরও বক্তব্য, নিরঞ্জন বিশ্বাস আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তখনও তাঁর বিরুদ্ধে একই ধরনের তোলাবাজির অভিযোগ উঠেছিলঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাজ‍্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং স্থানীয় সাংসদ রাজু বিস্তার কাছেও বিষয়টিতে  হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন রাজকুমার।

স্থানীয় সূত্রের খবর, নিরঞ্জন বিশ্বাস আগে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে বিজেপিতে আসেন। তিনি শিলিগুড়ির বিজেপির সাংগঠনিক জেলা কমিটির সদস্য। নিরঞ্জন এর আগে জেলা এসসি-এসটি মোর্চার সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। ঘোষপুকুর মণ্ডলের সভাপতির দায়িত্বও সামলেছেন নিরঞ্জন। তাঁর সমাজমাধ‍্যমের প্রোফাইলে রাজ‍্যস্তরের একাধিক বিজেপি নেতার সঙ্গে ছবি রয়েছে।

যদিও নিরঞ্জন বিশ্বাসের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিত ভাবে ফাঁসানো হয়েছে। গোটা ঘটনাটাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে দাবি করেছেন। তাঁকে কেনই বা কেউ ফাঁসাতে যাবে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি। অন‍্য দিকে, শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি অরুণ মণ্ডল জানিয়েছেন, “আইন নিজের পথে চলবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এই প্রক্রিয়ায় দল কোনও রকম হস্তক্ষেপ করবে না। অভিযুক্তকে প্রশ্রয়ও দেওয়া হবে না।”


Share