NIA

ভোটগণনার আগেই বড় পদক্ষেপ! মোথাবাড়ি কাণ্ডে তৃণমূল নেতাদের তলব এনআইএ-র

ভোটগণনার আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার দুপুরে তাঁদের কালিয়াচক থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

প্রতীকী চিত্র।
নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ
  • শেষ আপডেট: ০৩ মে ২০২৬ ১২:৫৩

মালদহের মোথাবাড়িতে এসআইআর প্রক্রিয়ায় যুক্ত বিচারকদের হেনস্থার ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা-নেত্রীকে তলব করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ভোটগণনার আগের দিন, অর্থাৎ রবিবার দুপুরে তাঁদের কালিয়াচক থানায় হাজিরা দিতে বলা হয়েছে।

তলবের তালিকায় রয়েছেন সুজাপুরের তৃণমূল প্রার্থী সাবিনা ইয়াসমিনের নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুল রহমান। তিনি মালদহ জেলা পরিষদের বন ও ভূমি দফতরের কর্মাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন। পাশাপাশি কালিয়াচক এক নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি মহম্মদ সরিউলকেও হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। সূত্রের খবর, রবিবার বেলা ১২টার মধ্যে তাঁদের থানায় পৌঁছতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও এলাকার আরও কয়েকজন পরিচিত তৃণমূল নেতা-কর্মীকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ।

উল্লেখ্য, এসআইআর তালিকা সংশোধনের কাজ করছিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির নিযুক্ত বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা। গত মাসে মোথাবাড়িতে তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ, কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসে সাত জন বিচারককে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে রাখা হয় এবং তাঁদের হেনস্থা করা হয়। এসআইআর তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়েই এই বিক্ষোভের সূত্রপাত বলে জানা যায়। ঘটনাটি পরে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নির্বাচন কমিশন এই ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে তুলে দেয়। এর আগে রাজ্য পুলিশের সিআইডি এই মামলায় মূল অভিযুক্তদের একজন মোফাক্কেরুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি এই বিক্ষোভের অন্যতম মূল চক্রী। এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় মোট ৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ এনআইএ হেফাজতে, আবার কেউ জেল হেফাজতে রয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে ভোটগণনার ঠিক আগে তৃণমূল নেতাদের তলবকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি আসনে দুই দফায় ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, আর ৪ মে ফলপ্রকাশের আগে এই পদক্ষেপ নতুন করে রাজনৈতিক তরজার ইঙ্গিত দিচ্ছে।


Share